কারাগারে থেকেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য মনোনয়নে উঠে এল ইমরান খানের নাম। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করছেন, এবার তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়নের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে।
যদিও তিনি এখন রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন, তবুও তাঁর অবদান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক চলছে। যদি তিনি মনোনয়ন পান, তাহলে এটি হবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি। তবে শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে তিনি কতদূর যেতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্সের একাংশের দাবি, গণতন্ত্র রক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর অবিচল অবস্থানই তাঁকে এই মর্যাদার জন্য যোগ্য করে তুলেছে।
ইমরান খান ২০১৯ সালেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রস্তাবনায় ছিলেন। সেবার তাঁর নাম দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি স্থাপন এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় অবদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। প্রতি বছর নরওয়ের নোবেল কমিটিতে হাজার হাজার প্রস্তাব জমা পড়ে, যা পরবর্তী মাসগুলোতে গভীর বিশ্লেষণ ও যাচাইয়ের মাধ্যমে সঠিক প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়।
নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা তৈরি করতে কমিটি একাধিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। ইমরান খানের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে, তাঁদের শান্তির জন্য অবদান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়, যা পুরো প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে, তাঁর নামের পুনঃমনোনয়ন নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি, এক সময়ের আইকন ইমরান খান, রাজনীতির মাঠে প্রবেশের পর নানা বিতর্কে ঘেরা এক নেতা হয়ে উঠেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) সফলতার শীর্ষে পৌঁছালেও, বর্তমানে তিনি দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী। তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য।
তাঁর মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান রাখার জন্য পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স তাঁকে সুপারিশ করেছে। যদিও তিনি এখন কারাগারে আছেন, প্রশ্ন হচ্ছে—শান্তির প্রচারে তাঁর অবদান কি সত্যিই বিশ্বকে প্রভাবিত করবে? পাকিস্তানের রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান বর্তমানে জটিল হলেও, ভবিষ্যতে শান্তির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়ে অনেকেই আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত সময়ই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।
