সুস্থ দাঁত ও মাড়ি বজায় রাখতে নিয়মিত এবং সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই প্রতিদিন দাঁত পরিষ্কার করলেও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করার কারণে দাঁতের সমস্যা তৈরি হয়। সঠিক কৌশলে ব্রাশিং করলে দাঁতে জমে থাকা খাদ্যকণা ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়, যা ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ ও মুখের দুর্গন্ধ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
দাঁত ব্রাশ করার সঠিক সময় জানা গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই সকালে ব্রাশ করলেও রাতে তা করতে ভুলে যান। রাতে ব্রাশ না করলে সারাদিন খাওয়া খাবারের অবশিষ্টাংশ দাঁতের ফাঁকে জমে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে, যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগের কারণ হতে পারে। খাবারের পরপরই ব্রাশ করা ভালো, তবে টকজাতীয় খাবার বা পানীয় গ্রহণের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত, কারণ সেগুলো দাঁতের এনামেলকে নরম করে দিতে পারে।
দাঁত ব্রাশ করার সময় কেবল সামনের অংশই পরিষ্কার করলে হবে না, বরং দাঁতের পেছনের দিকেও সমান মনোযোগ দিতে হবে। ব্রাশটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে ছোট ছোট বৃত্তাকার গতিতে ঘষতে হবে, যাতে দাঁত ও মাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। খুব জোরে ঘষলে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই হালকা চাপে ব্রাশ করা উচিত।
অনেকেই ভুলভাবে শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করেন, যা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দিতে পারে। নরম বা মাঝারি শক্তির ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো, যাতে দাঁতের ক্ষতি না হয় এবং মাড়ির জন্য আরামদায়ক হয়। দাঁতের গঠনের ওপর নির্ভর করে ব্রাশের আকৃতি নির্বাচন করা উচিত।
দাঁতের মাঝের ফাঁকগুলোতে ব্রাশ সহজে পৌঁছাতে পারে না। এজন্য প্রতিদিন ফ্লস ব্যবহার করা জরুরি, যা দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোট ছোট খাদ্যকণা দূর করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করতে অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
অনেকেই ব্রাশ করার সময় জিহ্বা পরিষ্কার করেন না, যা মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। জিহ্বার উপরেও ব্যাকটেরিয়া জমে, তাই নরম ব্রাশ বা টাং স্ক্র্যাপার দিয়ে নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত।
দাঁতের যত্নে নিয়মিত ব্রাশ পরিবর্তন করাও জরুরি। একটি টুথব্রাশ সাধারণত তিন থেকে চার মাসের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। ব্রাশের ব্রিসল নরম হয়ে গেলে বা বাঁকতে শুরু করলে সেটি বদলে ফেলা প্রয়োজন।
সুস্থ দাঁত ও মাড়ির জন্য কেবল ব্রাশ করলেই হবে না, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি। অতিরিক্ত চিনি বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত, কারণ এগুলো দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করা দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক ব্রাশিং অভ্যাস গড়ে তুললে শুধু দাঁতই নয়, সামগ্রিক মৌখিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। নিয়মিত দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ছয় মাস পরপর ডেন্টাল চেকআপ করানো উচিত। দাঁতের যত্ন নিতে হলে সঠিক নিয়ম মেনে ব্রাশ করা, ফ্লস করা, জিহ্বা পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
