ফের একবার মথুরা ও কাশির মন্দির প্রসঙ্গ তুলে সরব হলেন কার্তিক মহারাজ। বুধবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘‘অযোধ্যায় রাম মন্দির হয়েছে। এবার বেনারসের শিব মন্দির ও মথুরার কৃষ্ণ মন্দির চাই।’’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সদ্য পেশ করা ওয়াকফ বিল নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
এইদিনই লোকসভায় ওয়াকফ বিল পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। বিল পেশের পর থেকেই সংসদে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আজ লোকসভায় এই বিল পাস হলে বৃহস্পতিবার তা রাজ্যসভায় উঠতে পারে। রাজনৈতিক মহলে চলছে চাপানউতোর। ঠিক এই মুহূর্তেই নিজের মত প্রকাশ করলেন কার্তিক মহারাজ।
ওয়াকফ আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এটি হয়েছিল। বহু মঠ ও মন্দির ওয়াকফের আওতায় পড়েছে। বহু মানুষ জানেন না, ইতিহাস দেখলেই বোঝা যাবে, কত মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘ত্রিবেণী ও মালদহেও বহু মন্দির মসজিদে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখনো দেবদেবীদের ভগ্ন মূর্তি রয়েছে।’’
কার্তিক মহারাজ এদিন ফের জোর দিলেন তিনটি মন্দিরের দাবিতে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কখনও বলিনি, সব মন্দির ফেরত চাই। কিন্তু রাম মন্দির, বেনারসের শিব মন্দির আর মথুরার কৃষ্ণ মন্দির—এই তিনটি ভারতের প্রাণ। আমরা মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছেও এই তিনটি স্থানের বিষয়ে অনুরোধ করেছিলাম।’’
তবে কার্তিক মহারাজ এও বলেন, ‘‘ভারতে বহু মসজিদের নিচেই মন্দির রয়েছে। কিন্তু এটি এখন সমস্যার সমাধান নয়।’’ তার বক্তব্য, ‘‘বিগত শতাব্দীগুলিতে যে ভুল হয়েছে, তা শুধরে নেওয়ার জন্যই আমরা এই তিনটি স্থানের কথা বলেছি।’’
কার্তিক মহারাজের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ওয়াকফ বিল ও মন্দির-মসজিদ বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্য ফের একবার জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এখন দেখার, এই বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষ কী প্রতিক্রিয়া দেয়।
