সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৫ হাজার ৫৭৩ জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে। যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব হয়নি। আর সেই কারণেই শীর্ষ আদালতের এই রায়। এই নিয়োগ মামলায় কার্যত বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। এবার এত চাকরি বাতিল হওয়ার পর বড় প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এর পিছনে কোনও বড় চক্রান্ত থাকতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বামেদের নিশানা করেছেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে রায় ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১১৬১০ জন ক্লাস নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াতেন। ৫৫৯৬ জন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন। এগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস। অনেকে খাতাও দেখছে।” এবার ওই ক্লাসগুলিতে কারা পড়াবেন? কিংবা কি করেই বা নেওয়া হবে পরীক্ষা? প্রশ্ন মমতার!
দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণার পর এই প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, বাংলার পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোলাপ্স করার চেষ্টা চলছে না তো! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামেদের নিশানা করে এদিন বলেন, “সিপিএম তো চিরকুটে চাকরি দিত। তার তো তদন্ত হয় না?” মমতার দাবি, করে বাংলাকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে বামেরা চক্রান্ত করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে। ২৫ হাজার শিক্ষক যদি পড়াতে না পারে তাহলে চিকিৎসক থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করবে কারা? শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি? শিক্ষার মান দমিয়ে দিতে চাইছেন না তো? আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ না দিয়ে দমিয়ে দিচ্ছেন না তো?” এদিন মমতা নিশানা করলেন বাম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকেও।
