সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হল ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর। যোগ্য অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব না হওয়ার কারণেই এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এখানেও রায়ের পরেই এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঠগড়ায় তুললেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক করে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “বিকাশবাবু পৃথিবীর বৃহত্তম আইনজীবী। তাঁকে নোবেল দেওয়া উচিত। আমি তার জন্য রেকমেনডেশন পাঠাব।”
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই রায় মেনে নিতে পারেননি। যাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। এই প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন “আমি অবাক হয়ে যাই, এখানে কেসটা করেছিলেন কে? বিকাশবাবু। তিনি তো পৃথিবীর সবথেকে বৃহত্তম আইনজীবী। তিনি কেন এখনও নোবেল প্রাইজ় পাচ্ছেন না জানি না। পাওয়া উচিত। ভাবছি একটা রেকমেনডেশন করব।”
সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এদিন বলেন, “এতগুলো মানুষের চাকরি যাওয়ার পর বিজেপির মন্ত্রী সুকান্তবাবু বলছেন, অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে, এর জন্য আমি নাকি দায়ী! তো যখন আপনারা প্রথম কেস করলেন, তখন একবারও ভাবলেন না কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য? সেটা তো সরকারকে ভাবতেও দিলেন না। আপানারা নিজে যোগ্য তো? সব সময়ে বাংলাকে কেন টার্গেট করা হবে? আমার তো এখনও এক লক্ষ পদ ফাঁকা রয়েছে। শুধু এই কেসটার জন্য আমরা করতে পারছিলাম না। যেহেতু এটা বিচারাধীন ছিল। আগে এর উত্তর সামনে আসুক।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিনও চিরকূটে চাকরি প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ করলেন সিপিএম-কে। তিনি এদিন, “এডুকেশন সিস্টেমটা কি কোলাপস করতে চাইছে বিজেপি সিপিএম? সিপিএম নিজের আমলে কী করত? চিরকূটে চাকরি দিত। গণশক্তিতে যতজন রিপোর্টার রয়েছে, তাঁদের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে চিরকূটে। তার তদন্ত হয় না?”
আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমার কাজ সওয়াল করা। আইনি সংবিধানকে তুলে ধরা, সেই কাজটা আমি করেছি। সেই কারণেই তো আমরা উকিল। আমাকে দায়ী করতেই পারে। কারণ তারা লক্ষ্যভ্রষ্ট। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের কথা না ভেবে, বোকার মতো ভাবছে আমি তাদের শত্রু।” তাঁর কথায়, “লোকে বিপদে পড়লে যেমন ভগবানের শরণ নেয়, তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপদে পড়লে বিকাশ ভট্টাচার্য এবং সিপিএমের শরণ নেয়।”
