শীর্ষ আদালতের রায় প্রকাশিত হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নবান্ন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। বেআইনি নিয়োগ কেলেঙ্কারির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে নিযুক্ত কর্মীদের চাকরি বাতিলের কাজ শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরই নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়, যেখানে মুখ্যসচিব, শিক্ষাদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, সরকার খুব শীঘ্রই নিয়োগ বাতিলের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে।
শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, যাঁদের চাকরি বাতিল করা হবে, তাঁদের বকেয়া বেতন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উপর নির্ভর করতে হবে। এই রায়ের ফলে প্রায় ২৬,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সরকার নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এক শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা আদালতের রায় মেনে চলব। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।” মনে করা হচ্ছে, নতুন নিয়োগের জন্য নতুন পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
বিরোধী দল বিজেপি এই ঘটনাকে রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতা বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এই সরকার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা দাবি করেছেন, “সরকার আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করছে। আমরা আইন মেনে সব কিছু করব।”
চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রভাবিত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এক শিক্ষকের অভিযোগ, “আমাদের দোষ কী? আমাদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেল।”
সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। সমস্ত নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ কার্যকর করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ না হলে মামলাকারীরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এখন দেখার, সরকার কীভাবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কী পদক্ষেপ নেয়।
