পরিতোষ সাহা :বীরভূম
রামনবমী নিয়ে জোর টক্কর বিজেপি ও তৃণমূলের।কে বা কোন দল রামের বড় ভক্ত তা নিয়েই চলছে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে স্নায়ুর লড়াই।তাই রবিবার সকাল থেকেই রামনবমীর মিছিল শুরু করেছে শাসক তৃণমূল নেতৃত্ব।পথে তৃণমূল বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী ও সাংসদ শতাব্দী রায়।
রাম-ই পথে নামালো তৃণমূলকে।যার দলনেত্রী এক সময় “রাম”নাম শুনে গাড়ি থেকে নেমে তাড়া করেছিলেন।সেই দলের নেতা, নেত্রী থেকে শুরু করে বিধায়ক, সাংসদ পথে নামতে বাধ্য হল।সাথে তৃণমূল নেতাদের মুখ থেকে বের হল “জয় শ্রী রাম”ধ্বনি।গোটা জেলা সেজে উঠেছে রামের ছবি সম্বলিত ধ্বজা,কাটআউটে।আলোর রোশনায় ঝলমলিয়ে উঠেছে চারিদিক।আর এর মধ্যেই শুরু হয়েছে কে সবথেকে বড় রামের ভক্ত? তা নিয়েই।বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষই রামনবমী পালনে নেমে পড়েছে জোর কদমে।বীরভূম জেলার সিউড়ি,কড়িধ্যা,রাজনগর,দুবরাজপুর,মহম্মদবাজার,রামপুরহাট,বোলপুর,নলহাটি, সাঁইথিয়া, ময়ুরেশ্বর সহ বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী পালন করা হয় প্রতিবছর।আর সেটি করে বিজেপি।কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে রামনবমী পালন করে আসছে শাসক দল তৃণমূলও। সেবার তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বোলপুরে হনুমান মন্দিরে মাথা ঠুকে ছিলেন।তার সাথে ছিলেন লাভপুরের বর্তমান বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা।কিন্তু এবার দুটি রাজনৈতিক দলের রামনবমী পালনের হিড়িক অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি।বিশেষ করে শাসক তৃণমূলের রামনবমী পালন দেখে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,এবার রামনবমী পালনের তোড়জোড় বেশি হবার কারণ,সামনে ছাব্বিশের নির্বাচন।ইস্যু হিন্দু ভোটকে নিজেদের কাছে আরও বেশি করে টেনে আনা। পাশাপাশি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বেশ কোনঠাসা শাসক তৃণমূল। তাই কিছুটা নজর ঘোরাতে ও হিন্দু ভোটারদের মন পেতে তৃণমূল নেতারা এবার হাতে ধরেছে গেরুয়া ধ্বজা। পরিসংখ্যান বলছে বীরভূম জেলায় শহুরে ভোটার অনেকটাই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।পাশাপাশি ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অনেক পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে।কিছু কিছু পঞ্চায়েতে তৃণমূলের দখলে থাকলেও কিছু আসনে বিজেপির সদস্য থাকায়,ঘাসফুলের বুকে যে পদ্ম ফুটছে,তা বুঝতে পারছে উপর তলার তৃণমূল নেতৃত্ব।ফলে তৃণমূলের ঘাড়ে চাপা,নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি।২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের যা ফলাফল,তাতে জেলার পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি তেই বিজেপি এগিয়ে।ফলে শহুরে ভোটার অনেকটাই বিজেপির দিকে।তাই রামনবমী পালন গ্রামের থেকে শহরের দিকে বেশি ভাবে পালনের হিড়িক দেখা যাচ্ছে।আর শহরের রামনবমীর মিছিলে পা মেলাচ্ছেন শাসক দলের বিধায়ক,সাংসদ সহ তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।
বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ-সম্পাদক শ্যামসুন্দর গড়াঁই বলেন,“হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে রামনবমী পালন করা হচ্ছে গোটা জেলায়।যেটি আমরা প্রতিবছর করে থাকি।তবে আগের তুলনায় এবার আরও বেশি পরিমানে সনাতনী হিন্দুরা রামনবমী পালন করছেন।আর আমরা সেটাই চেয়েছিলাম।” রামনবমী পালনে পিছিয়ে নেই তৃণমূলও।রাজ্য নেতৃত্ব থেকে প্রতিটি জেলায় রামনবমী পালনের নির্দেশ দিয়েছে।বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী বলেন,“রাম সবার।রাম কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বা দলের নয়।তৃণমূল কংগ্রেসও রামনবমী পালন করছে।গোটা জেলায় সেটি পালন করা হচ্ছে।রামনবমীকে নিয়ে সারা জেলায় তৃণমূল কর্মীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে ।সাথে কীর্তন,ঢোল,ঢাক।”প্রখর রোদে রোদ চশমা পড়ে রামনবমীর মিছিলে এই প্রথম পা মেলালেন সাংসদ শতাব্দী রায়।
বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলের রামনবমীর ব্যবস্থাপনা দেখে ইতিমধ্যেই কড়া ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে বীরভূম পুলিশ ও প্রশাসন।পুলিশ সূত্রে খবর,জেলায় ৪০০ টিরও বেশি রামনবমীর মিছিল বের হবে।বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে।কয়েকদিন আগে থেকেই সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।জেলার প্রতিটি থানাকে সতর্ক করা হয়েছে।নজরদারি রাখতে ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।এছাড়াও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানা এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি শুরু করেছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে রামনবমী পালন এখন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে পালন হয়েছে বলে মত সাধারণ মানুষের।অন্তত শাসক দলের বিধায়ক থেকে সাংসদ প্রত্যেকেই পথে নেমে রামের নাম উচ্চারণ করা দেখে।ভোট বড় বালাই।না হলে কী রোদ চশমা পড়ে সাংসদ শতাব্দী রায় রামনবমীর মিছিলে হাঁটলেন?বলা ভালো হাঁটতে বাধ্য হলেন।
