বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের মুহূর্ত। তাঁর মা, কিম ফার্নান্দেজ, সম্প্রতি মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। স্ট্রোকের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি ও তাঁর পরিবার শোকস্তব্ধ। কিম ফার্নান্দেজের প্রয়াণে শুধু একজন মা নয়, হারিয়ে গেলেন একজন সহানুভূতিশীল ও দৃঢ়চেতা মানুষ, যিনি তাঁর পরিবারের প্রেরণা ছিলেন।
জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ বহুবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, তাঁর মা কেবল একজন অভিভাবক নন, বরং জীবনের প্রতিটি সংকটে এক নিঃশর্ত সাহস ও ভালবাসার উৎস। কিম ফার্নান্দেজ সবসময়ই মেয়েকে উৎসাহ দিয়েছেন নিজের স্বপ্নপূরণের পথে চলতে। জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থেকেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, ভালো-মন্দের বিচার করতে শিখিয়েছেন। এই বন্ধন শুধু মায়ের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কেই আবদ্ধ ছিল না, বরং ছিল এক শক্তিশালী বন্ধুত্বের রূপ।
কিম ফার্নান্দেজের মৃত্যুতে বলিউডের একাধিক তারকা সামাজিক মাধ্যমে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা জ্যাকলিনের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছেন। শেষকৃত্যের সময় অনেক সহকর্মীকেও জ্যাকলিনের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। এই মুহূর্তে অভিনেত্রী যতটা সম্ভব সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরা থেকে নিজেকে দূরে রাখছেন, তবে তাঁর মুখের বিষণ্ণতা ও কষ্ট যেন ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ ও তাঁর বাবা এলরয় ফার্নান্দেজ মায়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মায়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিবেশে। সেই দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভক্তরা এই খবর জানতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং প্রিয় অভিনেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
এই কঠিন সময়ে, জ্যাকলিন মায়ের স্মৃতি ও শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর মায়ের আদর্শ ও জীবনদর্শনই ভবিষ্যতের পথ চলার মূল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। মায়ের স্মৃতি তাঁর হৃদয়ে চিরকাল জেগে থাকবে, আর সেই শক্তিই তাঁকে সামনে এগিয়ে চলার সাহস দেবে।
কিম ফার্নান্দেজ ছিলেন একজন শান্ত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। তাঁর জীবনের অনেক সময় তিনি পরিবারকে কেন্দ্র করেই কাটিয়েছেন। মেয়ের বলিউড ক্যারিয়ার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তিনি ছিলেন ছায়ার মতো পাশে। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে কিম ফার্নান্দেজ ছিলেন এক অবিচল সহচর, যিনি কখনও লাইমলাইটে না থেকেও, নীরবে শক্তি জুগিয়েছেন।
এই শোকের সময়ে বলিউডে আবার একবার দেখা গেল তারকাদের সংহতি ও সহমর্মিতা। সবার দুঃখ এক, একজন মা হারানোর যন্ত্রণা, যা কোনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। জ্যাকলিনের জীবনের এই শূন্যতা কখনও পূরণ হবে না, কিন্তু তাঁর প্রিয়জনেরা এবং ভক্তরা সবসময় তাঁর পাশে আছেন, এই আশ্বাসই তাঁকে খানিকটা সান্ত্বনা দিতে পারে।
সময়ই একমাত্র যা কিছুটা ক্ষত প্রশমিত করতে পারে। তবে কিম ফার্নান্দেজের স্মৃতি ও ভালোবাসা জ্যাকলিনের জীবনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। এই নিঃশব্দ প্রস্থান এক অপূরণীয় ক্ষতি, যার ছায়া বলিউড এবং জ্যাকলিনের হৃদয়ে দীর্ঘদিন রয়ে যাবে।
