অভিজিৎ বসু
আওয়াজ উঠেছে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য। এই দুই এর টানাপোড়েনে এখন জেরবার আমরা সকলেই। এই টানাপোড়েনের মাঝেই রাজনীতির ঘূর্ণাবর্ত আর আদালতের নির্দেশ। আর সব কিছুকে মাথায় রেখেই আজ একদম নিজের স্টাইলে কঠিন ঘুর্ণি পিচে ব্যাট করলেন ষাটোর্ধ্ব মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হাসিমুখে ঠাণ্ডা মাথায়। আসলে কিছুটা বোধহয় কঠিন পিচে তিনি বরাবর ভালই ছয় মেরে খেলেন তিনি। আর তাই নিজে তিনি ঠাণ্ডা মাথায় যোগ্যদের পাশে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিলেন তিনি যে সরকার তাঁদের পাশে আছে একদম পুরোপুরি ভাবে। কোনমতেই এটা ভাবার কারণ নেই যে তাঁরা সব একা।’২০২২ থেকে একটা নোংরা খেলা শুরু হয়েছিল। চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা নেই, চাকরি কাড়ার যাদের ক্ষমতা আছে, তাদের ধিক্কার জানাই আমি। বিকাশ ভট্টাচার্যকে কি রাজনৈতিকভাবে আইসোলেট করা উচিত নয়?’, প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এমনকি সিপিএমের আমলের চিরকুটে চাকরির খবর পেলেও তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনোও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও এদিন পরিষ্কার করে দেন তিনি। আর নিজের ক্ষতি হোক নিজের উপর আক্রমণ হোক যেনো তাঁদের ঘরের ছেলে মেয়েদের কোনোও ক্ষতি না হয়। সরকার তাঁদের পাশে আছে। এই কলকাঠি কারা নাড়ল সেটা নিয়েও তিনি বলেন যে, এই বিষয়ে তাঁরা সব নজর রাখছেন। যাঁরা নিয়মিত চায় বাংলার ক্ষতি করতে। যাঁরা চায় বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলতে চায় যারা তাদের কথা বলে রাজনীতির আঙিনায় বুঝিয়ে দিলেন আমরা আর ওরা করেছে এই ওদের বিভেদের রাজনীতিই। যে রাজনীতির জন্য আজ এত বড় বিপদ আপনাদের। কই অন্য রাজ্য নিয়ে তো এমন হৈ চৈ হুল্লোড় হয় না। আসলে একটি রাজনৈতিক দল বাংলাকে এই ভাবে শেষ করতে চায়। তারা এইভাবেই বাংলাকে আমরা যারা ভালবাসি তাকে আঘাত করতে চায়। যে কোনোও উপায়ে এই বাংলাকে দখল করতে চায় তারা আর তার জন্য এই ঘৃণ্য রাজনীতি তাদের।
যে রাজনীতি আপনাদের আজ অসহায় করে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। কিন্তু ভয় নেই আপনাদের পাশে সরকার আছে, আপনাদের পাশে আমি আছি। যখন এই বার্তা তিনি হাসি মুখে দিচ্ছেন শিক্ষকদের কাছে মূখ্যমন্ত্রী পদ মর্যাদা হিসেবের থেকেও সবার ঘরের কাছের মানুষ হয়ে একদম ঘরের দিদি হিসেবে। তার কিছু দূরেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোর এই স্লোগানে রাস্তায় বসে পড়েছেন। আন্দোলন করছেন আর চিৎকার জুড়ে বলছেন সবটাই নাটক চলছে। কিন্তু এই আজকের সরকারের সব থেকে কঠিন পরীক্ষায়, অনেকটাই হাসি মুখে রাজনীতির আঙিনায় যোগ্য আর অযোগ্যদের সীমারেখা টানার মত তিনি তাঁর রাজনৈতিক শত্রুদের বুঝিয়ে দিলেন আগে পেট, আগে পরিবার, আগে সংসারকে বাঁচানো আর মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তারপর রাজনীতি আর আইনের শাসন। আর সেই লক্ষ্যে আজ একদম বিরাট কোহলি স্টাইলে ব্যাটিং করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন মমতা আছেন মমতাতেই নিজের মতো করেই। কাউকে পাত্তা না দিয়ে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চাকরী হারাদের পাশে দাঁড়িয়ে একদম ঘরের মেয়ে হয়ে, দিদি হয়ে।
