নাটকীয় মোড়কে ভরা আইএসএল সেমিফাইনালে শেষ হাসি হেসেছে বেঙ্গালুরু এফসি। গোয়ার বিরুদ্ধে দারুণ লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ে সুনীল ছেত্রীর গোলই ঠিক করে দিল ফাইনালের রাস্তা। খেলার একপর্যায়ে ম্যাচটা হাতের মুঠোয় নিয়েই ফেলেছিল এফসি গোয়া।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও তারা সাহসিকতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে স্কোরলাইন ২-২ করে তোলে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে এক ভুল পাসই কাল হয়ে দাঁড়ায়। সুযোগ বুঝে নামগিয়াল বল বাড়ান, আর ফাঁকা জায়গায় থাকা সুনীল হেডে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেন।
প্রথম থেকেই বেঙ্গালুরু খেলে প্রতিআক্রমণের কৌশলে। গোয়ার প্রবল আক্রমণ রুখে পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা, যদিও প্রাথমিকভাবে গোলের মুখ খুলতে পারেনি। গুরপ্রীতের দুটি অসাধারণ সেভ তখনো ম্যাচে রাখে দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলায় রঙ চড়াতে শুরু করে গোয়া। আয়ুষ ছেত্রীর বিরুদ্ধে ফাউলের সুযোগ নিয়ে দূরপাল্লার এক নিখুঁত ফ্রিকিকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন বোরহা। গোয়ার খেলার গতি আরও বেড়ে যায় সেই মুহূর্তে। পরে দ্রাজিচ একবার বল জালে পাঠালেও লাইন্সম্যানের পতাকা উঁচিয়ে ওঠায় গোলটা বাতিল হয়ে যায় অফসাইডের কারণে।
অন্যদিকে ম্যাচের শেষ ভাগে আকাশ সাঙ্গোয়ানের ডান দিক থেকে আসা নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোয়ার হয়ে সমতা ফেরান সাদিকু। তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার জন্য, কারণ পরে এক বিতর্কিত আচরণে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠলেন তিনি।
মাঠে নাটকীয়তা, তীব্র প্রতিযোগিতা আর আবেগের মাঝে সব আলো কেড়ে নেন অভিজ্ঞ সুনীল ছেত্রী। গোয়ার ডিফেন্ডারের একটি ভুল পাস ছিনিয়ে নিয়ে নামগিয়াল বল বাড়ান বক্সের মধ্যে। ঠিক সময়ে সঠিক স্থানে হাজির হয়ে সুনীল ছেত্রী দেখালেন কেন তিনি এখনও দলের নির্ভরযোগ্য মুখ।
নিখুঁত টাইমিং, নিঃশব্দে ঢুকে পড়া, আর দুর্দান্ত ফিনিশ—সব মিলিয়ে সেই মুহূর্তটাই হয়ে উঠল ম্যাচের ভাগ্যবদল। গোয়ার রক্ষণ যেন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর সুনীল সেই সুযোগটাই কাজে লাগান চূড়ান্ত পেশাদারিত্বে। তাঁর হেডেই নির্ধারিত হয় কে যাবে ফাইনালে।
গোয়ার ফিরে আসার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে, বেঙ্গালুরু ছিনিয়ে নেয় জয়। যে গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল, সেটি এল অভিজ্ঞতা আর আত্মবিশ্বাসের নিট ফল হিসেবে। আর তাতেই আবারও প্রমাণিত হল—সুনীল ছেত্রী মানেই বড় ম্যাচের নায়ক।
