স্নিগ্ধা চৌধুরী
মুর্শিদাবাদের শান্ত নিমতিতা স্টেশন হঠাৎই যেন উত্তেজনার পটে রূপ নিল প্রতিবাদের আঁচ রেললাইনে ছড়িয়ে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা থমকে গেল ট্রেন চলাচল। কেন্দ্রের ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে উত্তাল জনতা রেললাইন দখল করে শুরু করলেন বিক্ষোভ। ঠিক যেন সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময়ের সেই ট্র্যাক অবরোধের পুনরাবৃত্তি।
ঘটনাস্থলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সরব বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ। তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্যেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কেয়া দুটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে একটিতে দেখা যায় রোদের আলোয় উত্তেজিত জনতা রেললাইনে দাপাদাপি করছে, অপরটিতে অন্ধকারে ঢল নেমেছে প্রতিবাদীদের। স্লোগান, পতাকা, আর ট্রেনের গতি—সবই স্তব্ধ।
তবে বিতর্কে জট বেঁধেছে কেয়া ঘোষের পোস্ট নিয়েও। নিমতিতা স্টেশন মুর্শিদাবাদে হলেও, কেয়া তা উল্লেখ করেন মালদা জেলার অন্তর্গত হিসেবে। যদিও তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট এই বিক্ষোভ জনসুরক্ষা বিপন্ন করছে এবং ভবিষ্যতে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংশোধনী আইন ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা তুঙ্গে। দেশে মোট ৮.৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার ৫৪৮টি। অথচ, গোটা দেশের বার্ষিক আয় মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা! বিজেপির অভিযোগ, এই বিপুল সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে আনা হয়েছে সংশোধনী আইন।
রাজনীতি উত্তপ্ত, রেললাইন জ্যাম, আর সাধারণ মানুষ সেই চিরচেনা প্রশ্নে দাঁড়িয়ে এই প্রতিবাদ কি সত্যিই ন্যায়সঙ্গত, নাকি আরেকটি রাজনৈতিক দাবা চাল?
