পানামা খালকে ঘিরে আবারও আগ্রহ দেখাল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কৌশলগত পথ নিয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি হোসে রাউল মুলিনোর সঙ্গে একান্ত আলোচনার পর, তিনি স্পষ্ট করে বলেন—চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে, আর সেটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কারণ।
সূত্রের দাবি, অতলান্তিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চীনা অর্থায়নের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটনের মতে, এটি শুধু ব্যবসা নয়, এক ধরনের ভূ-রাজনৈতিক খেলা। তাই আমেরিকার পক্ষ থেকে পানামা খালের ভবিষ্যৎ ঘিরে কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। খাল ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
পানামা খাল ঘিরে নতুন করে সামরিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিলেন পেন্টাগনের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা পিট। তাঁর বক্তব্য, পানামার সেনার সঙ্গে মিলিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র খালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাবে। তাঁর মতে, “চিন এই খাল নির্মাণ করেনি, পরিচালনাও করে না—তবুও ওরা এটিকে কৌশলগত হাতিয়ার বানাতে চাইছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালে যে চুক্তির মাধ্যমে খালের দায়িত্ব পানামার হাতে গিয়েছিল, এখন সময় এসেছে সেই সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবার। আমেরিকার পূর্ব অধিকার এবং প্রভাব ফিরিয়ে আনার পক্ষেই মত তাঁর। ওয়াশিংটনের এই নতুন কূটনৈতিক সুর ইঙ্গিত দিচ্ছে, চিনকে রুখতে পানামা খালকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আরও জোরদার করতে চায় আমেরিকা।
অন্যদিকে, পানামা খাল ইস্যুতে ফের কড়া সুরে আওয়াজ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচলের নাম করে বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে কিছু অসাধু গোষ্ঠী।
ট্রাম্পের মতে, এই খাল কখনওই পানামার নিজস্ব সম্পদ ছিল না—বরং আমেরিকার অর্থে, প্রযুক্তিতে এবং পরিশ্রমে এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। তাই এর উপর অধিকারও থাকা উচিত আমেরিকারই।
আগেও তিনি এ বিষয়ে সরব হয়েছিলেন, আর এবার ক্ষমতায় ফিরেই হুঙ্কার ছেড়েছেন, “এই খাল আমরা বানিয়েছি, তাই প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করেও তা আমাদের হাতে ফেরত আনব।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনার ঢেউ।
