বারবার ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ হলে সেটিকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয় ‘রেকারেন্ট ইউটিআই’। ছ’মাসে দু’বার বা বছরে তিনবারের বেশি হলে এটি চিকিৎসার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। শুধু ওষুধ খেলে হবে না, কেন এমন হচ্ছে তা খুঁজে বের করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিছু সাধারণ ভুল বা অবহেলা থেকে এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। যেমন, সঠিকভাবে জল না খাওয়া, প্রস্রাব আটকে রাখা, ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতার অভাব কিংবা হাইজিনের ঘাটতি।
মহিলাদের মধ্যে ইউটিআই-এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়, কারণ তাঁদের মূত্রনালির গঠন কিছুটা ভিন্ন। গর্ভাবস্থা, মেনোপজের পরবর্তী সময়, ডায়াবেটিস বা ইমিউনিটির ঘাটতি থাকলেও ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক সময় যৌনমিলনের পরও ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে যদি সঠিক পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা হয়।
অনেকেই জল খুব কম খান, দিনের পর দিন প্রস্রাব আটকে রাখেন বা কাজের চাপের কারণে নিয়ম মেনে ওয়াশরুমে যান না। এই অভ্যাসগুলিই শরীরে টক্সিন জমতে দেয়, যা ইউটিআই-এর একটি বড় কারণ। তাছাড়া যাঁরা অতিরিক্ত হারে অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, তাঁদের শরীরে ধীরে ধীরে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, ফলে ইনফেকশন হলেও ওষুধ তেমন কাজ করে না।
নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থা, যেমন ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে জন্মগত সমস্যা থাকলেও এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় ইউটিআই-এর লক্ষণগুলো এতটা সাধারণ হয় (যেমন বারবার প্রস্রাবের বেগ, জ্বালা ভাব, ব্যথা), যে মানুষ গুরুত্ব দেয় না, ফলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত জলপান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, যৌন সম্পর্কের পর সাবধানতা অবলম্বন, সঠিক অন্তর্বাস বেছে নেওয়া—এই সমস্ত কিছুই ইউটিআই প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া, প্রয়োজনে প্রাথমিক স্তরেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই রুখে দেওয়া যায়।
বিষয়টি যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে এই সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং বড়সড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তিকে গুরুত্ব দিন, কারণ তাতে ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
