চাকরিহারাদের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন মুখ্য সচিবের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কসবায় চাকরিহারা শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ বা লাথি মারার ঘটনা অভিপ্রেত নয়। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। তবে আইন শৃঙ্খলা হাতে তুলে নেওয়াও উচিত নয় বলে জানিয়েছেন মুখ্য সচিব। কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা জাবেদ শামীমকে পাশে নিয়ে
মুখ্য সচিব বলেন, চাকরিহারা শিক্ষকদের মানসিক এবং পারিবারিক পরিস্থিতি বেদনার হলেও আইনশৃঙ্খলা নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয় বলেও জানিয়েছেন মুখ্যসচিব। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতি সরকারের মানবিকতার দিকটি স্পষ্ট করেছেন। সেই অনুযায়ী সরকার সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন করেছে। যাতে চাকরিহারা শিক্ষকরা তাদের চাকরি ফিরে পান। যখন এই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার তখন কসবায় যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অবাঞ্ছিত বলেই মনে করছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব।
পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আইন-শৃঙ্খলা নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। সে ক্ষেত্রে আ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে পদক্ষেপ করতেই হবে। কসবায় সরকারি সম্পত্তি যেমন নষ্ট করা হয়েছে তেমনি কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের মারধরও করা হয়েছে। মুখ্য সচিবের আবেদন, “চাকরিহারারা যে কষ্টের মধ্যে রয়েছেন তা আমরা বুঝতে পারছি। সমস্ত মানবিক দিক দেখে যা করার দরকার সেভাবেই পদক্ষেপ করছি। শিক্ষক শিক্ষিকা বন্ধুদের আমরা আবেদন করব, যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা যায়। আপনারা কাজ করুন। আগামী দিনে যাতে আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান হয় সেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”
মুখ্য সচিবের পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানিয়েছেন চাকরি হারা শিক্ষকদের লাথি মারছে পুলিশ এ ধরনের ছবি বাঞ্ছনীয় নয়। তবে সমস্ত ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বিচার বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার আরও জানান, পুলিশ কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে। ৬ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন মহিলা পুলিশ কর্মীও আছেন। এক পুলিশ কর্মীর আঘাত গুরুতর বলে জানান পুলিশ কমিশনার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হালকা বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে বলেও জানান মনোজ ভার্মা। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে পুলিশকে আগে থেকে কোন কিছু জানানো হয়নি বা অনুমতি চাওয়া হয়নি বলে দাবি পুলিশ কমিশনারের। স্থানীয় কসবা থানার পুলিশ খবর পেয়ে সেখানে যায় বলে জানান তিনি।
