‘কেশরী চ্যাপ্টার ২’-এর জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক চেহারায় হাজির হয়েছেন অক্ষয় কুমার। বলিউডের পরিচিত মুখ এবার যেন অচেনা! মুখে বিবর্ণ রঙের আভা, চোখে অনড় দৃষ্টিভঙ্গি, আর পরণে ইতিহাসের ছোঁয়া—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত শিল্পের প্রতিরূপ তিনি। এমন সাজে তাঁকে দেখে হতবাক অনুরাগীরা, কারণ এতটাই ভিন্ন এই রূপান্তর যে চোখ ফেরানো দায়।
এই পরিপূর্ণ রূপান্তর শুধুই পর্দার চাহিদা মেটাতে নয়—এর পেছনে লুকিয়ে এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে মর্যাদা দেওয়ার অন্তরতম প্রয়াস। অক্ষয় কুমার তাঁর নতুন ছবিতে সি শঙ্কর নায়ারের ভূমিকায়, যিনি স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়েছেন ভাষা, আইন এবং যুক্তিবুদ্ধির অস্ত্র দিয়ে।
তাঁর সংগ্রাম ছিল নীরব, কিন্তু গভীর। চরিত্রে প্রবেশ করতে গিয়ে অক্ষয়ের এই অনন্য রূপে ধরা দিয়েছে এক গভীর মানবিকতা। অভিনেতা নিজেই বলেছেন, “এই বেশ আমার সংস্কৃতির প্রতি এক অন্তরের নিবেদন—এটা কোনো সাজ নয়, এটা আত্মার ভাষা।” তাঁর এই উপস্থাপনায় ধরা পড়ে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের সংযোগ, যেখানে অভিনয় আর শ্রদ্ধার ফারাক মুছে যায়। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই রূপ যেন শুধু এক চরিত্র নয়, বরং জীবন্ত প্রতীক।
টিজারটি সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে আলোড়ন। মাত্র ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যেই স্পষ্ট, এটা কেবল বিনোদন নয়—বরং অতীতের গহন সুরে বাঁধা এক ঐতিহাসিক যাত্রা। দর্শকের চোখে তা হয়ে উঠেছে এক সময়কে ছুঁয়ে ফেলার অনুপম অভিজ্ঞতা। সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে, এটি যেন ইতিহাসের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা বীরত্বের এক নতুন উন্মোচন।
১৮ এপ্রিল বড় পর্দায় আসছে এমন এক চরিত্র, যাঁর কাহিনি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় নয়, মানুষের অন্তরেই লুকিয়ে আছে। ‘কেশরী চ্যাপ্টার ২’-এর এই গল্পে উঠে এসেছে সেই বিস্মৃত বিপ্লবীর জীবন, যিনি কলম আর ন্যায়বোধকে হাতিয়ার করে লড়েছেন উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে। অক্ষয় কুমার এই চরিত্রে যেন নিজেকেই ভুলে গিয়েছেন—তাঁর রূপান্তর শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, বরং এক গভীর আত্মমগ্নতা, যা দর্শকদের কাঁপিয়ে দিয়েছে।
এই চরিত্রে তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে না, তিনি কোনো রোল প্লে করছেন—বরং মনে হয়, তিনি সত্যিই হয়ে উঠেছেন সেই মানুষটি। এই অদ্ভুত মিল দর্শকদের মনে প্রশ্ন তুলেছে—অভিনয় আর বাস্তবতার মাঝে কি কোথাও মিলিয়ে যাচ্ছেন অক্ষয়? ইতিহাস কি তাঁকে সত্যি নিজের অংশ করে নিচ্ছে?
চোখে-মুখে ঐতিহাসিক আবেগের ছাপ, প্রতিটি ভঙ্গিতে এক গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন—এই ছবির মাধ্যমে যেন সময়কে ছুঁয়ে দেখার এক নতুন পথ খুলে যাচ্ছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, এই গল্প কতটা ছুঁতে পারে দর্শকের হৃদয়।
