চাকরিহারাদের ডিআই অফিসে বিক্ষোভ ঘিরে ফের উত্তাল কসবা। বুধবার সকালে ডিআই অফিস চত্বরে চাকরিহারাদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রাক্তন বিচারপতি ও বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করেন।
বুধবার সকালেই তাঁর স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে বৈঠক ছিল, এরপর মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে, পুলিশি হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ অভিজিৎ জানান, এই পরিস্থিতিতে কোনও ভদ্র বৈঠক সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ প্রচণ্ড মারধর করেছে। যাঁরা অপরাধী, তাঁরা তো মন্ত্রিসভায় বসে রয়েছেন। শিক্ষকদের এইরকম মার খেতে দেখে আমি সভ্য আলোচনায় অংশ নিতে পারি না।”
অন্যদিকে, বিকাশভবনের বাইরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “উনিই বলেছিলেন আসবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমরা দল-মত ভুলে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিই। অথচ উনি এলেন না।”
ব্রাত্য বসু বলেন, “তুমি সর্প হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো—এই রকম দ্বিচারিতা করা যায় না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি প্রতিবাদই দেখাতে হত, তাহলে উনি কমিশনে গেলেন কেন?”
শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, বিজেপি-র তরফ থেকেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “উনি কোনও রাজনৈতিক বাধায় পড়লেন কিনা, সেটা উনিই ভালো বলতে পারবেন।”
এই ঘটনার পর শিক্ষাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ আলোচনার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা।
