স্নিগ্ধা চৌধুরী
কলম ফেলে ব্যানার হাতে, বইয়ের বদলে স্লোগান!শিক্ষার মন্দির ছেড়ে এবার রাস্তাই লড়াইয়ের পাঠশালা।
২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি গেল এক আদালতি রায়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায় মান্য হলেও, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে শীতলতা আসেনি আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে। বরং ‘স্বেচ্ছাশ্রম’ প্রস্তাব যেন আগুনে ঘি। রাজপথ এখন তাঁদের প্রতিবাদের নতুন শ্রেণিকক্ষ।
বুধবার রাজ্যের ডিআই অফিসে বিক্ষোভ শেষে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিলেন—এবার আর পিছু হটার প্রশ্নই নেই। বৃহস্পতি-বৃহৎ মিছিলের দিন।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু, গন্তব্য ইতিহাস লেখার ঠিকানা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ।
দুপুর ১২টায় জমায়েতের ডাক। সেই জমায়েতে থাকবেন শুধুই শিক্ষক নন চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাধারণ মানুষ সবাই মিলে গড়ে তুলবেন যোগ্যতার মহামিছিল। এই মিছিল শুধু চাকরির লড়াই নয়, আত্মসম্মান ও ন্যায়ের দাবিতে গর্জে ওঠা এক শিক্ষিত সমাজের ধ্বনি।
‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’ সাফ জানিয়ে দিয়েছেরাজনৈতিক রঙ তারা চায় না।
এই লড়াই কোনও দলের নয়, এই লড়াই আমাদের পঠিত পুঁথির সত্যতার জন্য।
শুক্রবার তাঁরা যাবেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিসে। তবে এবার আর অনুমতির কাগজ হাতে নয়, বরং ইমেলে শুধুই জানানো হবে প্রশাসনকে—জনগণই আমাদের অনুমতি, প্রতিবাদই আমাদের অধিকার।
সাধারণ মানুষের চোখে এখন একটাই প্রশ্ন এই লড়াই কতদূর যাবে? একটিই উত্তর ভেসে আসছে রাজপথ থেকে,যতদিন না ফিরে আসে আমাদের প্রাপ্য সম্মান, ততদিন শিক্ষক কণ্ঠ থামবে না।
কলকাতার রাজপথ এদিন সাক্ষী থাকবে এক ব্যতিক্রমী পাঠশালার যেখানে সিলেবাস নয়, স্লোগানই পাঠ, আর শিক্ষকরাই হবেন শিক্ষক।
