চলতি আইপিএলে বিরাট কোহলির ব্যাট যেন এক নিঃশব্দ বিদ্রোহ—যেখানে শব্দ নেই, কিন্তু আছে শটের তীব্রতা, আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি আর লক্ষ্যভেদের নিখুঁততা। প্রতিপক্ষের বোলারদের চোখে চোখ রেখে তিনি বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিণত হয়েছেন তিনি, আরও নির্মোহ আর ফোকাসড।
প্রতিটি ইনিংসে যেন এক অদৃশ্য প্রতিজ্ঞা এই বার, কিছু রেখে যাওয়ার। নিজের আগের ছায়াকে ছাপিয়ে যাওয়ার এই যাত্রায় কোহলি প্রমাণ করছেন, প্রতিভা জন্মগত হলেও সাফল্য নির্ভর করে নিষ্ঠা আর নিয়মিত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছায়। মাঠে তাঁর প্রতিটি হাঁটা, প্রতিটি শট যেন এক গভীর বার্তা দেয়—এই প্রত্যাবর্তন হঠাৎ নয়, এটি প্রস্তুতির ফসল।
আর তাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরাট কোহলির নামের পাশে আজ এক গর্বিত সংখ্যা—১৩,০০০ রান।
পরিসংখ্যান যতই উজ্জ্বল হোক, তাতে ঢাকা পড়ে না এক দীর্ঘদিনের আক্ষেপ। প্রায় দুই দশকের আইপিএল সফরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে একবারও ট্রফি ছোঁয়ার স্বাদ পাননি বিরাট কোহলি। সেই না-পাওয়ার যন্ত্রণা আজও যেন তাঁর ভেতরে ঘুণপোকার মতো কুরে কুরে খায়। তাই তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি আগ্রাসী, আরও বেশি নিবেদিত হয়ে উঠছেন তিনি।
কেরিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে এসে বিরাট যেন বুঝে গেছেন—এটাই শেষ সুযোগ, যেখানে স্বপ্নকে বাস্তব করার লড়াইটা সবচেয়ে জরুরি। প্রতিটি বলেই দেখা যাচ্ছে তাঁর ভিতরের তীব্র তৃষ্ণা—যেন এক অসমাপ্ত গল্প শেষবারের মতো পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষায়।
জিওহটস্টারের সঙ্গে কথোপকথনে বিরাট কোহলি একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন—ক্রিকেটে তাঁর যাত্রা কখনই নিজের নাম উজ্জ্বল করার জন্য নয়। ব্যাট হাতে তিনি নামেন দলের প্রয়োজনে, কারণ তাঁর কাছে ক্রিকেট মানে সম্মিলিত লড়াই।
ব্যাক্তিগত সাফল্যের দৌড়ে তিনি নেই, বরং দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে কোহলি কখনও কারও সঙ্গে তুলনায় বিশ্বাস রাখেন না, কারণ তিনি জানেন—সত্যিকারের নেতৃত্ব আসে দলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ভিতর দিয়ে।
আইপিএলে তাঁর নামের পাশে লেখা ৮১৬৮ রান ও ২৫৬ ম্যাচের অভিজ্ঞতা—এগুলো নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত কীর্তি। কিন্তু তাঁর চোখে এখনো অপূর্ণতা রয়ে গেছে, কারণ শিরোপার স্বাদ অধরাই রয়ে গেছে।
এতগুলো মরশুম খেলেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে ট্রফি উঠতে দেখেননি নিজের হাতে। এই না পাওয়ার যন্ত্রণা যেন তাঁকে আরও বেশি দৃঢ় করে তুলেছে। আজও তিনি লড়ছেন, নিজের সেরাটা দিচ্ছেন, কারণ তাঁর কাছে এই ট্রফি শুধুমাত্র জয়ের প্রতীক নয়—এটা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও একনিষ্ঠ পরিশ্রমের স্বীকৃতি। বিরাট জানেন, শেষ পর্যন্ত লড়াইটাই আসল।
