রাজস্থান রয়্যালসের এবারের আইপিএল অভিযানে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে যেন বেশি শিরোনামে নিয়ম ভাঙার খবরে! আমদাবাদে গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচে সময়ের কাঁটা পেরিয়ে যাওয়ায় পুরো দলকেই গুনতে হল বড়সড় জরিমানা।
ধীরগতির ওভার সম্পূর্ণ করায় এবার আইপিএলের নিয়ম ২.২২ ধারা মোতাবেক কড়া শাস্তির মুখে পড়লেন রাজস্থানের অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। তার ব্যাগ হালকা হয়েছে ২৪ লক্ষ টাকায়। কিন্তু এই জরিমানার তালিকায় স্যামসন একা নন দলের আরও ১১ জন ক্রিকেটারকেও ভাগ বসাতে হয়েছে এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায়। এমনকি যিনি কেবল ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের ভূমিকায় ছিলেন, সেও রেহাই পাননি। সময় নষ্টের মূল্য দিতে হয়েছে গোটা দলকেই।
প্রত্যেক রাজস্থান ক্রিকেটারের জন্য নির্ধারিত হয়েছে আর্থিক কাটছাঁট ৬ লক্ষ টাকা কিংবা ম্যাচ ফি-র এক চতুর্থাংশ, যেটা তুলনামূলকভাবে কম, সেটাই কাটা হয়েছে সরাসরি। এই তালিকায় শুধু মূল একাদশই নয়, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারও রয়েছেন ক্ষতির খাতায়। একসঙ্গে ১২ জন ক্রিকেটারের ওপর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ায় গোটা দলই যেন ঢুকে পড়েছে এক অদ্ভুত ‘জরিমানা ব্রিগেড’-এর ঘরে।
তাদের অপরাধ? সময়মতো ওভার শেষ না করা—যার জন্য শুধু অধিনায়ক নয়, দলের বাকি সদস্যদেরও দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। নিয়মভঙ্গের এই পুনরাবৃত্তি যেন এবার আইপিএলের চোখ রাঙানিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আগেরবার শুধু সতর্কবার্তায় রক্ষা মিললেও এবার একযোগে পকেট ফাঁকা করে চরম মূল্য চুকিয়েছে গোটা দল। মাঠে ‘ধীর গতির’ খেলার মাসুল এবার ম্যাচ হার নয়, মোটা অঙ্কের টাকা!
গুয়াহাটিতে আগেও রাজস্থানের কপালে জুটেছিল এমনই বেদনা। সিএসকের বিরুদ্ধে নিজেদের হোম মাটিতে ম্যাচ চলাকালীন সময়মতো ওভার সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল দল। সেবার দলের দায়িত্বে ছিলেন রিয়ান পরাগ, আর সঞ্জু স্যামসন নেমেছিলেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের ভূমিকায়। সেই ম্যাচেও সময় ব্যবস্থাপনার ফাঁক গিয়েছিল ধরা, এবং ফল হয়েছিল একাধিক শাস্তি।
এই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই আবার সেই একই পথ ধরে হাঁটল রয়্যালস শিবির। যেন সময়ের ভুলের পুনরাবৃত্তি! পুরনো সেই অনুশোচনার ছবি আবার নতুন করে ফিরে এলো চলতি মরশুমে।
স্যামসনের নাম এখন সময় নষ্টের ‘টপ ফাইভ’ তালিকায়। আইপিএল ২০২৫-এ স্লো ওভার-রেটের অপরাধে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন পঞ্চম স্থানে। এই বিশেষ তালিকায় তাঁর সঙ্গী হয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া, ঋষভ পন্থ, রজত পতিদার ও রিয়ান পরাগ—যারা প্রত্যেকেই নিজেদের দলের হয়ে সময়ের অপচয়কে করেছেন নিয়মভঙ্গের বাহক।
রাজস্থানের বল হাতে গতি কম থাকায় প্রতিপক্ষের রান বাড়েনি ঠিকই, কিন্তু বিপদ বেড়েছে নিজের ঘরে! ২০ ওভারের ঘড়ি সময়মতো থামাতে না পারার মাশুল গুনতে হয়েছে গোটা দলকে। আর এই অপরাধে ব্যাটের বদলে চলেছে জরিমানার কাঁচি।
মাঠে ব্যর্থ হলে হার, আর সময় নষ্ট করলে ব্যালেন্স শূন্য—এ যেন রাজস্থানের নয়া বাস্তবতা। নিয়ম ভাঙা যে আর শুধু কাগজে-কলমে নয়, তার প্রমাণ দলটাই। মাঠে স্লো, আর পকেট থেকে ফ্লো—এটাই এখন স্যামসনদের গল্প!

