এই আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস যেন ‘এক্সপ্রেস ট্রেন’—গন্তব্য শুধু জয়! প্রতিপক্ষদের তারা এমন চাপে রাখছে, যেন খেলাটা একপেশে নাটক। প্রশ্ন একটাই—এই অপ্রতিরোধ্য গতি থামাবে কে? এদিকে, বেঙ্গালুরুও হাত গুটিয়ে বসে নেই।
বিরাট কোহলি যেন ব্যাট হাতে আগুন! এমন ছন্দে আছেন, একা হাতেই ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন। বেঙ্গালুরু এবার যেন দিল্লির জয়ের পথের সামনে রেড সিগন্যাল দেখাতে মরিয়া। তাদের পরিকল্পনা? দিল্লির দাপটে ব্রেক কষে ম্যাচটাকে করতে হবে জমজমাট!
ওপেনিং ঝড় থামলেও আরসিবির মিডল অর্ডার এখন যেন দাবার ছকে বসানো চালাক ঘুঁটি। লিয়াম লিভিংস্টোন, টিম ডেভিড আর ক্রুনাল পান্ডিয়া—এই তিন ‘গেম চেঞ্জার’ মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষের ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড়। যে মুহূর্তে ভাবা হয় ম্যাচ হাতের মুঠোয়, ওরাই এনে দেয় নাটকীয় মোড়।
আর পেছনে রয়েছেন জীতেশ শর্মা—কিপিং তো করেনই, তার সঙ্গে ব্যাট হাতেও গড়ে তুলছেন ভরসার নতুন সংজ্ঞা। সব মিলিয়ে এবারের আরসিবি স্কোয়াড যেন এক সুসজ্জিত সেনাদল—প্ল্যান ঠিক থাকলে যে কোনও বড় দলকে মুহূর্তে ধাক্কা দিতে সক্ষম। চাপ তৈরি করতে নয়, চাপ ভাঙতেই যেন মাঠে নামছে তারা।
মিচেল স্টার্কের বল হাতে আগুন ছোড়ার কাজটা যেন এখন রুটিন হয়ে গেছে। তিন ম্যাচেই ৯ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—ব্যাটারদের নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই! এক ম্যাচে তো পাঁচ-পাঁচটা উইকেট ছিনিয়ে নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও আইপিএলের ‘স্পিড-স্টার্ক’। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন এই অজি পেসার। তাঁর বল মানেই যেন পরীক্ষার প্রশ্ন—উত্তর ভুল মানেই স্টাম্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য!
তবে এই ম্যাচে দিল্লির হয়ে আলাদা করে নজরে থাকবেন লোকেশ রাহুলও। ব্যাঙ্গালোরের মাঠ তাঁর ভীষণ পরিচিত, সেই সুবাদে তিনি সহজেই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করতে পারেন। ম্যাচের মোড় ঘোরাতে তিনিও হয়ে উঠতে পারেন দিল্লির গোপন অস্ত্র।
একসময় আরসিবিকে নেতৃত্ব দেওয়া ফাফ ডুপ্লেসিকে ঘিরে আবার সরগরম ক্রিকেট মহল। বর্তমানে তিনি দিল্লি শিবিরে সহ-অধিনায়কের ভূমিকায়। শোনা যাচ্ছে, তিনি খুব শিগগিরই ফিরছেন মূল দলে।
তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হলে দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং অর্ডারে আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। ওপেনিংয়ে রাহুলের জায়গা কি তখনো অটুট থাকবে, নাকি ফাফকেই দেখা যাবে ইনিংস শুরু করতে? এই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে ভাবনায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
ম্যাচের কৌশল ও কম্বিনেশন নির্ধারণে এই সিদ্ধান্ত হতে পারে মোড় ঘোরানো। কে শুরু করবেন ইনিংস, সেই এক সিদ্ধান্তই বদলে দিতে পারে দুই দলকেই ঘায়েল করার পরিকল্পনা। তাই এখন সব চোখ দিল্লির একাদশে—ফাফের প্রত্যাবর্তন কি সত্যিই বদলে দেবে ম্যাচের গতিপথ?
