বুধবার আমদাবাদের গরমে ঝলসানো সন্ধ্যায় যেন মুহূর্তেই জমে গেল উত্তাপ। গুজরাট টাইটান্সের ইনিংসের একেবারে অন্তিম ওভারে, রশিদ খান এক অভিনব স্টাইলে, চোখ না ঘুরিয়ে বল পাঠালেন স্কোয়ার লেগের দিক।
দর্শকরা তখন ভেবেই নিয়েছেন, বল উড়ে চলে যাবে সীমানার বাইরে। ঠিক সেই সময়েই বদলে গেল দৃশ্যপট—মাঠে নামল নাটকের চূড়ান্ত দৃশ্য। যতটা আকর্ষণীয় ছিল রশিদের ব্যাটের কারসাজি, তার থেকেও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠল যশস্বী জসওয়ালের ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়া।
তখন যশস্বী ডানদিকে ঝাঁপিয়ে, নিজের উপস্থিতি জানিয়ে দিলেন যেন বজ্রগতিতে। ক্যামেরার ফ্রেম ভেদ করে ধরা দিল সেই অনন্য মুহূর্ত—যেখানে থেমে গেল সময়, আর শুরু হল ইতিহাস।
রশিদ খানের ব্যাটে ঝলসে উঠেছিল আশার আলো—মাত্র ৪ বলে ১টি চার ও একটি ছক্কায় তুলে ফেলেছিলেন ১২ রান। কিন্তু যশস্বীর দুরন্ত ক্যাচে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সেই ক্ষণিকের ঝড়। অন্যদিকে, গুজরাটের ব্যাটিং ছিল যেন ধ্বংসের রূপকথা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তারা একের পর এক শটের বিস্ফোরণে রাজস্থানের বোলারদের নাস্তানাবুদ করে তোলে।
২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তুলল বিশাল ২১৭ রান। প্রতিটি ব্যাটার যেন একেকটি আগুনের গোলা। সাই সুদর্শনের আগ্রাসন, বাটলার-শাহরুখের ধার, আর তেওয়াটিয়ার শান্ত আগুন মিলিয়ে গড়ে উঠল এই দুর্ধর্ষ স্কোরবোর্ড, যা রাজস্থানের কাছে হয়ে উঠল এক দুঃস্বপ্ন।
রাজস্থানের পক্ষে মাহিশ থিকশানা ও তুষার দেশপান্ডে কিছুটা চেষ্টা করে বোলিংয়ে ছন্দ ফেরানোর উদ্যোগ নেন—দু’জনেই তুলে নেন ২টি করে উইকেট। তবে গুজরাট টাইটানসের বিশাল রানের চাপের কাছে সেই প্রচেষ্টা ছিল না পর্যাপ্ত। ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফরম্যান্সে রাজস্থানকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেয় গুজরাট। ৫৮ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে হার্দিকদের দল।
তবে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে একটাই মুহূর্ত – যশস্বী জসওয়ালের উড়ন্ত ক্যাচ। রশিদ খানের মারাত্মক শটটিকে অস্বাভাবিক গতিতে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন তিনি। সেই ক্যাচ শুধু রশিদের ইনিংস থামায়নি, ভক্তদের মনে গেঁথে গেল চিরকালের মতো। ম্যাচের নায়ক সুদর্শন হলেও, হৃদয় জয় করলেন যশস্বী।
