শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এখন নানা ধরণের আন্দোলনের জোয়ার।কেউ পুরোনো যা কিছু সমূলে উপড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলছেন আবার কেউ বলছেন নতুনের জোয়ার আনতে।জুলাই আন্দোলনের জের টেনেই কিছুদিন আগে রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল নয়া রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ জাতীয় নাগরিক দল। রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠে নেমেই নানা বিতর্কের জন্ম দিতেছে এনসিপি নেতৃত্ব।এবার শোনা যাচ্ছে – বদলে যাওয়া বাংলাদেশে আরও একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে! এই দলেরও মূল এজেন্ডা হতে চলেছে জুলাই আন্দোলনের সমস্ত দাবি ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করা।আর এই দল বা আপ বাংলাদেশ গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই এই সংক্রান্ত একটি ঘোষণা করে পোস্ট আলী আহসান জুনায়েদ। তিনি লিখেছেন
“ ৩৬শে জুলাই ফতহে গণভবনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলেও, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বহু মানুষের কাছে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
পিলখানা, শাপলা ও জুলাই গণহত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার, ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ, দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ, ধর্মবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ামুক্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ এবং আধিপত্যবাদের বিপক্ষে কার্যকর অবস্থান—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গৌণ হয়ে পড়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়ার কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা গণঅভ্যুত্থানের দাবিগুলো প্রকৃতই বাস্তবায়ন করতে চাই।
৩৬শে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছে, তা পূর্ণতা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সর্বস্তরে যোগ্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে এই বিপ্লব পরিপূর্ণতা পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সামাজিক চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুনর্গঠন সম্ভব। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এই উদ্যোগে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই। আসুন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গঠনের এই সংগ্রামে শামিল হই।”
বাংলাদেশের আমজনতাকে এই নয়া রাজনৈতিক মঞ্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জুনায়েদ। তবে এপ্রিল মাস বললেও ঠিক কবে এই নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করবে তা নির্দিষ্টভাবে জানানো হয় নি।
