অভিজিৎ বসু
দীর্ঘদিন রোগভোগের পর প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের বাঁকড়ি গ্রামে নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। ‘চাষার ব্যাটা’র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। শুক্রবার সকালে ভাঙড়ের বাকড়ি গ্রামে নিজের বাড়িতেই জীবনাবসান হয় তাঁর। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। সক্রিয় রাজনীতি থেকেও দীর্ঘদিন ধরে দূরেই ছিলেন তিনি। ১৯৭৭ সালে প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় ক্যানিং পূর্ব থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১১ সাল পর্যন্ত সেই কেন্দ্রেরই বিধায়ক ছিলেন তিনি। বামেদের দুর্দিনেও হাতছাড়া হয়নি রেজ্জাক মোল্লার এই আসন। বাম আমলে ছিলেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের মন্ত্রী।
২০১৪ সালে CPIM-এর রাজ্য কমিটি রেজ্জাক মোল্লাকে দলবিরোধি কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করে। এর পর নতুন পার্টি গঠন করেছিলেন ‘চাষার ব্যাটা’ রেজ্জাক। নাম রেখেছিলেন ভারতীয় ন্যায়বিচার পার্টি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় রেজ্জাকের এই নতুন পার্টি গঠনের পর থেকেই। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ভাঙড় থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন ২০১৬ সালে। পান খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের ভার। যদিও ২০২১ সালে বয়সজনিত কারণে রেজ্জাককে আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। খানিকটা দূরত্বও তৈরি হয় দলের সঙ্গে তাঁর। তার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন। সক্রিয় রাজনীতিতে আর তেমন ভাবে দেখা যায়নি তাঁকে। যদিও নানা ইস্যুতে তাঁর রাজনৈতিক মতামত শোনা গিয়েছে। তাঁর সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর মন্ত্রী সভায় মন্ত্রী থাকার সময় তাঁর বিখ্যাত উক্তি নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। ‘হেলে ধরতে পারে না কেউটে ধরার চেষ্টা ‘
যে মন্তব্য নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে হৈ চৈ পড়ে যায়। সিপিএমের এই ডাকাবুকো মেঠো মন্ত্রী বরাবর ঠোঁট কাটা। আর তাই তিনি কিছুটা দলেও তেমন করে গুরুত্ব পাননি বলে তাঁর একটা অভিমান ছিল। দল যেখানে উচ্চ বর্ণের নেতাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল সেখানে একজন সংখ্যালঘু বড়ো মাপের নেতা হয়েও তিনি যেনো দলের মধ্যে অনেকটাই একা ছিলেন। আর তাই সেই গ্রামের মেঠো মানুষের সভায় তিনি বলতেন গ্রামের চাষীর বাড়ীর ছেলে পাশের বাড়ীর মেয়ের সাথে গল্প করে, ভালোবাসে একে অপরকে কিন্তু ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে পারে না কারণ কাজ কোথায়। কৃষির সাথে শিল্পকে যে দরকার সেটা তিনি আগেই বুঝেছিলেন। তবে প্রয়াত মূখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এর শহুরে উন্নাসিকতার সাথে তাঁর মেঠো সহজ সরল রাজনীতির একটা লড়াই ছিল বরাবর। আজ সেই কাঁধে গামছা নিয়ে সাধারণ চাষীর ঘরের মানুষ রেজ্জাক মোল্লা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ‘চাষার ব্যাটা’র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া আমার সহকর্মীর প্রয়াণে আমি শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করতাম সম্মান করতাম। অন্য ধারার রাজনীতি থেকে বিপরীত মেরুর রাজনীতি করলেও তিনি আজও এই বাংলার রাজনীতিতে অন্য রকম একটা মুখ হয়েই বেঁচে থাকবেন।
