ওমানে হতে চলেছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বহু প্রতীক্ষিত আলোচনা।শুক্রবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছেন এদিনই এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় তারা।গত সোমবারই অপ্রত্যাশিতভাবে,ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওভাল অফিসে কথা বলার সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।জানান ওমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।তখনই ট্রাম্প জানান যে কূটনৈতিক সমাধানই উত্তম,তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান ‘বিপদের’ মুখে পড়বে।
কেন পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা চাইছেন ট্রাম্প?
কিন্তু কেন ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসাতে চাইছেন ট্রাম্প? ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ব্যাপারটাই বা কী? আসলে গত বছর মে মাসেই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএর গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয় যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আগের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ইরান। আর এর ফলে তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।আইএইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়।ইরান ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে। ১১ মে, ২০২৪ পর্যন্ত ইরানের কাছে ১৪২.১ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা আগের বারের চেয়ে ২০.৬ কেজি বেশি।
চুক্তি হয়েছে এর আগেও
যদিও বারবার ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।পশ্চিমী দুনিয়ার অভিযোগ, অসামরিক কাজের জন্য এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কোনও যুক্তিগত কারণ নেই।ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও আমেরিকার সঙ্ঘাত আজকের নয়।২০১৫ সালে বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তির ফলে শুধুমাত্র পরমাণু বিদ্যুতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করতে পারত ইরান, পাশাপাশি ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি ফিরে পায় তারা। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেই এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে আবার কড়া তেহরান বিরোধী অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।আমেরিকা চাইছে নতুন করে পরমাণু সমঝোতা করতে। তবে তেহরানের অভিযোগ, নিরস্ত্রীকরণের অজুহাতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ‘কোপ’ বসাতে চাইছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল।তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি বলেন যে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য আলোচনা বা সমস্যা সমাধান করা নয়, গুন্ডামি করা বা অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা।
ওমানে আলোচনা কিভাবে, কোন পথে?
যদিও ওমানে কীভাবে আলোচনা কিভাবে আর এগোবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে আলোচনা সরাসরি হবে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ ওমানে উপস্থিত থাকবেন। মনে করা হচ্ছে আলোচনা হবে পরোক্ষভাবে,যেখানে ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় করবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, “ট্রাম্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তিনি ইরানকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন—সমস্ত বিকল্প খোলা রয়েছে। তারা ট্রাম্পের শর্ত মেনে নিতে পারে, নয়তো ভয়াবহ পরিণতি হবে।” যদিও ইরান চাইছে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা।
আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে ইরান ‘পারমাণবিক বোমা চায় না’ এবং যদি চুক্তি হয়, তাহলে তেহরান আমেরিকান বিনিয়োগের জন্য উন্মুখ হতে পারে। সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নেগার মোরতাজাভি বলেছেন, “ওমানের দিকে ইরানিরা তাকিয়ে আছে, আশা করছে যে এই আলোচনা অর্থনীতির অবস্থার উন্নতি করতে পারে।”
