ছেলেবেলায় তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য কাজ করা, সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে জাতির সেবা করা—সেই স্বপ্ন নিয়েই পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে সেনা কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন তাহাউর রানা। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই স্বপ্নের পথ ঘুরে গেল এক অন্ধকার গলিপথে। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হয়ে উঠল সেই ‘স্বপ্নবাজ’ কিশোর। বর্তমানে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)-র হেফাজতে রয়েছে তাহাউর রানা, যাকে সম্প্রতি আমেরিকা থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে ভারতে আনা হয়েছে।
তাকে রাখা হয়েছে NIA সদর দফতরের নীচ তলার একটি বিশেষ সেলে, যেখানে আগামী ১৮ দিন ধরে চলবে দফায় দফায় জেরা। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি, যারা পালা করে রানাকে জেরা করছেন।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা পর্বে প্রথমদিকে বেশ চুপ ছিল রানা। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীদের বিশেষ সহযোগিতা করেনি। তবে কিছু কিছু প্রসঙ্গে ধীরে ধীরে মুখ খুলতে শুরু করে সে। জানা যাচ্ছে, ছেলেবেলার স্মৃতি, পরিবার ও সেনাবাহিনীর প্রতি টান নিয়েই মুখ খুলেছে রানা।
জানা গিয়েছে, তাহাউরের বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তার আরও দুই ভাই পাকিস্তানেই থাকেন—একজন সেনা-চিকিৎসক এবং অন্যজন পেশাদার সাংবাদিক। নিজেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার ইচ্ছায় ভর্তি হয়েছিল সেনা কলেজে। সেখানেই তার প্রথম পরিচয় ঘটে ডেভিড কলম্যান হেডলির সঙ্গে, যে পরবর্তীতে মুম্বই হামলার আর এক গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্রী হয়ে ওঠে।
NIA-র দাবি, সেনা-চিকিৎসক হিসাবে কাজ করার পর অবসর নিলেও, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI এবং লস্কর-ই-তৈবার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে গিয়েছিল রানা। কানাডায় গিয়ে মাংসের ব্যবসা শুরু করলেও, তার দোকানে নিয়মিত যাতায়াত করত ISI-র অফিসার ও পাকিস্তানি গুপ্তচররা। এমনকি সেনা থেকে অবসর নেওয়ার পরেও, সে ISI-এর পোশাকে লস্করী বৈঠকে অংশগ্রহণ করত বলে তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে আসা এই তথ্য একদিকে যেমন হতবাক করেছে তদন্তকারীদের, তেমনই এটাও পরিষ্কার করছে—তাহাউর রানা কেবল মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রকারী নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জঙ্গি নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ মাথা, যার শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান থেকে আমেরিকা পর্যন্ত।
এই মুহূর্তে গোটা তদন্তের ওপর নজর রেখেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। রানার কাছ থেকে আর কী কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন চোখ তদন্তকারীদের।
