চলতি আইপিএল মরসুমে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে রীতিমতো চমকে দিয়েছে প্রতিপক্ষ দল। আর এই জয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ ঘটনা, যা প্রকাশ্যে এনেছেন আজিঙ্কা রাহানে। প্রাক্তন তিন সিএসকে খেলোয়াড়ের কৌশল ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই গড়ে উঠেছিল এই জয়ের ছক। রাহানের মতে, দলের বাইরে থাকা এই তিন জন সিএসকে-র শক্তি ও দুর্বলতা দুইই খুব ভালোভাবে জানতেন। সেই অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি থেকেই তাঁরা তৈরি করেছিলেন ধোনির দলের বিপরীতে কৌশলগত পরিকল্পনা।
রাহানে বলেন, এঁরা কেউই আর সিএসকে-র অংশ নন, কিন্তু ধোনির অধীনে ও দলের কাঠামোর সঙ্গে এতটাই পরিচিত ছিলেন যে তা প্রতিপক্ষের কাছে অমূল্য হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের পরিকল্পনায় যে নিখুঁততা ছিল, তাতেই খেই হারায় চেন্নাই। এ ছিল এমন এক খেলা যেখানে মাঠে না থেকেও তাঁদের ভূমিকা ছিল কার্যকর এবং ম্যাচ নির্ধারণকারী।
তবে চেন্নাইয়ের হয়ে খেলা আজিঙ্কা রাহানে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একেবারে খোলামেলা বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানান, ধোনির নেতৃত্ব সবসময়েই অনুপ্রেরণার উৎস। মাঠে ধোনির উপস্থিতি যে কতটা শক্তি জোগায়, তা বোঝা যায় যখন তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর কৌশল, ঠান্ডা মাথা, এবং খেলোয়াড়দের উপর আস্থা – সব মিলিয়েই চেন্নাইয়ের ড্রেসিংরুমে এক বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়।
রাহানে আরও বলেন, ধোনি তাঁকে বারবার বলতেন নিজের খেলার ধরনে আস্থা রাখতে। ‘নিজের শক্তির দিকেই মনোযোগ দাও’, – এই পরামর্শটাই তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয় এবং বাইশ গজে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। বর্তমানে তিনি সেই আত্মবিশ্বাসের জোরেই খেলছেন এবং দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে উঠছেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তিনি এ মরসুমে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ভালো ইনিংস খেলেছেন। তবে তিনি শুধু নিজের নয়, দলের সাফল্যকেই বড় করে দেখেন। তাঁর মতে, সঠিক নেতৃত্ব, ইতিবাচক ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খোলামেলা মত প্রকাশের স্বাধীনতাই একজন খেলোয়াড়ের উন্নতিতে সাহায্য করে।
যদিও ধোনির দল এই ম্যাচে হেরে গেছে, কিন্তু রাহানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে জয়-পরাজয়ের থেকেও বড় হল কৌশল ও অভিজ্ঞতার লড়াই। এবং সেখানে পুরনো অভিজ্ঞতাই হয়ে উঠেছে চাবিকাঠি।
শেষ পর্যন্ত এটাও প্রমাণিত যে আইপিএল শুধু ব্যাট-বলের খেলা নয়, এটি একটি কৌশলগত যুদ্ধও। যেখানে অতীত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, ও মস্তিষ্কের খেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধোনির দলের হার সেই সত্যিটাকেই নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
