খাদ্যরসিক বাঙালির স্বাদে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নববর্ষের আগে খাদ্য রসিক বাঙালি ও বাংলার জন্য বিশেষ উপহার।বাংলার গর্ব নলেন গুড় আরও একধাপ উপরে উঠে পেল জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ বা জিআই ট্যাগ।
নলেন গুড় মানেই মন ভরানো স্বাদ, মুখে মিলিয়ে যাওয়া সন্দেশ। এবার সেই নলেন গুড়ের সন্দেশ পেল নয়া সম্মান। মূলত নদীয়া উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এই তিন জেলার নলেন গুড়কে নয়া স্বীকৃতি দিচ্ছে কেন্দ্র। মূলত নদীয়ার মাজদিয়ায় সর্বোত্তম গুড় উৎপাদনের জন্য খ্যাত। যার অধিকাংশটাই এক্সপোর্ট কোয়ালিটির গুড় বলে পরিচিত। এছাড়া উত্তর 24 পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বেশ কিছু অংশে উৎকৃষ্ট মানের নলেন পাওয়া যায়। যার স্বাদ বা কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এর আগে ২০১৭-তে বাংলার রসগোল্লা ছিনিয়ে নিয়েছে জিআই ট্যাগ। বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা, জয়নগরের মোয়া সহ
বাংলার আরও তিন ঐতিহ্য মুর্শিদাবাদের ছানাবড়া, বিষ্ণুপুরের মোতিচুরের লাড্ডু ও কামারপুকুরের সাদা বোঁদেও পেয়েছে এই সম্মান। এর পাশাপাশি মালদার নিস্তারি সিল্ক , রাঁধুনিপাগল চাল (শীতের এক সুগন্ধি চাল) ও বারুইপুরের পেয়ারাও পেয়েছে জিআই ট্যাগ। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বাংলার ৩৫টি দ্রব্য রয়েছে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন ট্যাগের তালিকায়। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রকের অন্তর্গত শিল্প প্রচার এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে দেওয়া হয় এই জিআই সম্মান। কোনও অঞ্চলের বিশেষত্ব এবং বিশেষ গুণসম্পন্ন কোনও জিনিসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয় নির্দিষ্ট এক চিহ্ন দিয়ে। বাংলার প্রায় প্রতিটা জেলাতেই ছড়িয়ে আছে কিছু না কিছু ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। সেগুলিই এবার কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছে।
জিআই তকমা পাওয়ার সুবিধা কি?
জিআই তকমা পেলে বিদেশের বাজারে আলাদা সম্মান পায় ওই খাবার। জিআই ট্যাগ মেলার পরে স্বাদ-মান বজায় রাখা সেখানে বিশেষ জরুরি হয়ে পড়ে। দামও বাড়ে অনেক সময়।
জিআই তকমা পাওয়ার পদ্ধতি কি?
কোনও খাবার জিআই তকমা পাওয়ার আগে তার কেমিক্যাল এবং মাইক্রো বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয় বলে। কী কী উপাদান রয়েছে তাতে, তার পুষ্টিগুণই বা কী, সেইসবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এক্ষেত্রে। ইতিহাস ঘেঁটে ওই খাবারের যাবতীয় রেকর্ড, তৈরির পদ্ধতি সবটাই পাঠানো হয় সরকারি দফতরে, যাতে জিনিসটির আসল জায়গা তথা উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তারপর সরকারিভাবে নানা কাঠখড় পুড়িয়ে আনা হয় পেটেন্ট ও জিআই তকমা।
