অভিজিৎ বসু
মুর্শিদাবাদ জেলার ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলন ও জেলার নানা হিংসার ঘটনা নিয়ে জেলা বামফ্রন্টের প্রেস বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে সদ্য। আর সেই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে মৃত ব্যক্তি ইজাজ শেখের নাম। কিন্তু আরও দুজন হিন্দু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি সেই বিবৃতিতে। সেটা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে চারিদিকে জেলা জুড়ে এমনকি সমাজ মাধ্যমে। তাহলে এই হিংসা আর হানাহানি করে যে তিনজন মারা গেছে সেই মৃতদের নিয়ে কেনো এত ভাগাভাগি? আর কেনো প্রেস বিবৃতিতে নাম উল্লেখ নেই তাদের সবার একসাথে। সেটা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কটাক্ষ করা হচ্ছে তাহলে কী ইজাজ শেখ ছাড়া যে আরও দুজনের প্রাণ গেলো তাদের নাম নেই কেনো। ওয়াকফ বিল নিয়ে মুর্শিদাবাদে সামসেরগঞ্জে সেই বাবা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় সামসেরগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকা থেকে। আন্দোলন কারীদের হাতে মৃত্যু হয় বাবা ও ছেলের বলে এমন অভিযোগ ওঠে। সামসেরগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকায় বাড়ির সামনের রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত বাবা ও ছেলের নাম হরগোবিন্দ দাস(৭৪) ও চন্দন দাস(৪০)। সেই দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়নি এই জেলা বামফ্রন্টের প্রেস বিবৃতিতে। কিন্তু কেনো? শুধুই কি তাদের নাম গোবিন্দ আর চন্দন বলে? নাকি এটা নিছকই ভুল মাত্র। না, জেনে বুঝেই এটা করা হলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন রক্ষায়। আসলে এই রাজনীতির কারবারিরা বোধহয় জীবন ও মৃত্যুকে পুরোটাই রাজনীতির প্রেক্ষাপটে হিসেব করে দেখেন আর চলেন আর পা ফেলেন। আর তাই হয়তো ইজাজ এর নাম প্রকাশ্যে এলেও গোবিন্দ ও চন্দনকে নিয়ে কোনও চর্চা শুরু হয় না। যদিও তিনজনের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। এলাকার পরিস্থিতি যাতে শান্ত হয় তার দাবি করা হয়। কিন্তু তাদের নাম প্রকাশ্যে আসে না কিছুতেই। সত্যিই অসাধারণ এই রাজনীতি আর রাজনীতির কুশীলব। যাঁরা মৃত্যুতেও হিসাব করেন নিজেদের ভোটের রাজনীতির ফায়দা। সেটাকে ধরেই যে তাদের সবার রাজনীতির ময়দানে এগিয়ে চলা।
