পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক অস্থিরতার মধ্যে। ‘ওয়াকফ বিল’-এর বিরুদ্ধে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিবাদে রাজ্য উত্তপ্ত, কিন্তু শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক অদ্ভুত নীরবতা রাজ্যবাসীর মনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে। মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপের অভাব, পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। আর এই অবস্থা কি পশ্চিমবঙ্গকে ‘প্রেসিডেন্ট রুল’-এর পথে নিয়ে যাচ্ছে?
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি যখন তৈরি হচ্ছে, তখন শাসক দলের পক্ষ থেকে কোনো শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া না আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাজ্য সরকারের নীরবতা মানে যে রাজনৈতিক সংকট শুধু বাড়ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত যদি এইভাবে চলতে থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার যে ‘প্রেসিডেন্ট রুল’ আরোপ করবে, তা অবশ্যম্ভাবী হতে পারে।
রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, শাসক দলের এই অসংগতি রাজ্যকে আরো অরাজকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনো স্পষ্ট কৌশল না নিয়ে, রাজ্য সরকারের নীরবতা এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করছে, যার পরিণতি হতে পারে রাজ্যে কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থা প্রয়োগ। আর সেই অবস্থান যদি আসেই, তবে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক বাঁক বদল হবে।
এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন— রাজ্য সরকার কী পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হবে, না কি রাজনৈতিক অস্থিরতার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ? ‘প্রেসিডেন্ট রুল’ আসলে কতটা কাছে, এবং রাজ্যবাসী কি এর প্রভাব অনুভব করবে?
