অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, অনিয়মিত রুটিন, উদ্বেগ—এইসব কারণে অনেকেই রাতভর বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেন। কিন্তু প্রতিদিন সঠিকভাবে বিশ্রাম না পেলে শরীর এবং মন, দুই-ই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অথচ কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই মিলতে পারে প্রশান্ত ঘুম।
রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দুধ, কলা কিংবা টক দইয়ের মতো খাবার ঘুম আনতে সাহায্য করে। বিপরীতে, খুব বেশি ঝাল, তেল-মশলাদার খাবার বা রাতের দিকে অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া করলে তা হজমের সমস্যা তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে ঘুমের উপর।
অনেকেই সন্ধ্যা বা রাতের দিকে চা বা কফি পান করেন, যা একেবারেই উচিত নয়। ক্যাফেইন শরীরকে চঞ্চল করে তোলে, ঘুম আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বরং ক্যাফেইনমুক্ত হালকা গরম পানীয় বা হারবাল চা বেছে নিতে পারেন।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশনের পর্দা থেকে আসা ব্লু লাইট মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তোলে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকা উচিত। এর পরিবর্তে বই পড়া, ধ্যান করা বা হালকা সঙ্গীত শোনা সহায়ক হতে পারে।
ঘুমের সময় প্রতিদিন একই রাখার চেষ্টা করুন। এমনকি ছুটির দিনেও সেই নিয়ম ভাঙা উচিত নয়। শরীরকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত করলে ঘুমও আসতে শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ে।
শরীরচর্চা যেমন সঠিকভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে, তেমনই অতিরিক্ত ক্লান্তিও ঘুম নষ্ট করতে পারে। তাই সঠিক মাত্রায় হাঁটা, যোগা বা প্রাণায়াম করলে শরীর-মন দুটোই প্রশান্ত হয় এবং গভীর ঘুম আসে সহজে। তবে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা করা ঠিক নয়।
দিনের কাজের ফাঁকে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মানসিক চাপ কমানো জরুরি। কেউ কেউ লেখালেখি, কেউ সঙ্গীত, কেউ আবার ধ্যান বা প্রার্থনার মাধ্যমে শান্তি খুঁজে পান। এই অভ্যাসগুলো মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে এবং ঘুমে সহায়তা করে।
ঘুমের পরিবেশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের আলো, তাপমাত্রা, বিছানার আরাম, এমনকি শোয়ার পোশাক—সব কিছুই ঘুমের গুণমান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। পরিষ্কার, শীতল ও শান্ত ঘর ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
সবশেষে, যাঁরা দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। অনিদ্রা অনেক সময় অন্য রোগের উপসর্গও হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এইসব অভ্যাসগুলি রোজকার জীবনে আনলেই ঘুম নিয়ে আর কষ্ট পেতে হবে না। স্বাস্থ্যকর ঘুম মানেই সুস্থ জীবন।
