বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনার হাওয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া হামলা ও বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে রয়েছে বিএসএফ-এর একাংশ, যারা নাকি ‘হামলাকারীদের’ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকতে সাহায্য করছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চলে হঠাৎ করেই কিছু মুখচেনা নয় এমন লোকজনের আগমন ও তৎপরতা ঘিরে। কুণাল ঘোষ বলেন, এই ‘হামলাকারীরা’ স্থানীয় নয়, এবং তাদের কার্যকলাপ সন্দেহজনক। স্থানীয়রা তাদের চিনতে পারছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন— কিভাবে এই সমস্ত বহিরাগতরা সীমান্ত অতিক্রম করে নির্দ্বিধায় বাংলায় প্রবেশ করছে?
তাঁর মতে, এ এক গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রশাসনকে চাপে রাখা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কিছু রাজনৈতিক শক্তি মিলে পরিকল্পিতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। কুণালবাবু সরাসরি কোনও দলের নাম না করলেও, তার ইঙ্গিত ছিল বিরোধী বিজেপির দিকে।
তিনি আরও বলেন, বিএসএফ সাধারণত সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে, কিন্তু এখন কিছু সদস্য তাদের দায়িত্ব ভুলে রাজ্যের স্থিতিশীলতা নষ্টের ‘অভ্যন্তরীণ মাধ্যম’ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অনুপ্রবেশ শুধু রাজ্যের নিরাপত্তা নয়, সামগ্রিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও হুমকি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সূত্রের খবর, বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগ মনে করছে, এর পেছনে অন্য কোনো শক্তি কাজ করছে, এমনকি বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদী সংগঠনেরও যোগ থাকতে পারে।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতারা কুণাল ঘোষের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাজ্যে ঘটে চলা আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা ঢাকতেই তৃণমূল এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করছে।
তবে তৃণমূল শিবির এই মন্তব্যকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সতর্কবার্তা হিসেবে দেখাতে চাইছে। কুণাল ঘোষ এই ঘটনা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান এবং জানান, সরকার ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আবেদনও জানান।
রাজ্যের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের
