সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি ও জঙ্গিপুর এলাকায় ওয়াকফ আইন ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এবং জাতীয় সড়কে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাজ্য সরকার কেন্দ্রের থেকে বাহিনী চেয়ে পাঠায়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা, ঝাড়খণ্ড এবং জঙ্গলমহল থেকে মোট ৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছেছে।
এই বাহিনীগুলি মুর্শিদাবাদের অশান্ত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হবে। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ টহল চালানো হবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে। ঝাড়গ্রাম থেকে সিআরপিএফ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স, কলকাতা থেকে এক কোম্পানি ও জঙ্গলমহল থেকে তিন কোম্পানি নিয়ে এই বাহিনী গঠন হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদালত রাজ্যকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহারকে যথোপযুক্ত বলেই চিহ্নিত করে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই শান্তির বার্তা দিয়ে বলেছেন, কেউ যেন গুজবে কান না দেয়। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার্থে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত না হয়।
বিএসএফ, সিআরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় স্তরে কোনও রকম অশান্তি মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়।
এই পদক্ষেপে এলাকাবাসীর একাংশ কিছুটা স্বস্তি পেলেও এখনো একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কোনওরকম উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
