নববর্ষে নবকলেবরে কালীক্ষেত্র কালীঘাট
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
নববর্ষে নব রূপে সেজে উঠতে চলেছে কলকাতার অন্যতম আইকন ও কালীক্ষেত্র কালীঘাট মন্দির। ৫১ সতীপিঠের একটি পিঠ হল এই কালিকা মন্দির। এই মন্দিরের উন্নয়নকল্পে এবং আন্তর্জাতিক দরবারে সমাদৃত এই কালী ক্ষেত্রকে আরো বর্ণময় করে তুলতে আজ দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মতোই স্কাইওয়াক উদ্বোধন হতে চলেছে কালীঘাট মন্দিরে। আজ সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ এই নবনির্মিত স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা কলকাতার এই অন্যতম আইকন কালীঘাট মন্দির কে আরো সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
মূলত, কালীঘাট মন্দিরের জন্য স্কাইওয়াক তৈরীর ভাবনা বেশ কিছু বছর আগেই। ২০১৮ সালে যখন দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক উদ্বোধন হয় তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের স্কাইওয়াক হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। সেই মতো ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। ৪৫০ মিটার লম্বা ১০ মিটার চওড়া এই স্কাইওয়াক। এস পি মুখার্জি রোড থেকে কালিঘাট মন্দির পর্যন্ত এই স্কাইওয়াকের বিস্তার। স্কাইওয়াকে থাকবে তিনটি গেট এবং চলমান সিঁড়ি। একটি গেট থাকবে কালীঘাট মন্দিরের সামনে যে গেটের মাধ্যমে সরাসরি মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে নামতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। ২০২১ সালে কাজ শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। স্কাইওয়াক তৈরি হলে হকারদের পুনর্বাসনের বিশেষ ব্যবস্থা করে দিতে হবে বলে দাবি ওঠে। পাশাপাশি কালীঘাট মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার পরিষদ সংকীর্ণ হওয়ায় কাইওয়াক তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির শঙ্কুলামেও বিগ পেতে হয় রাজ্য সরকারকে। শুধু স্থানীয় দোকানদারদের সমস্যাই নয় বেশ কিছু বসতবাড়িও স্কাইওয়াক তৈরিতে বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায়। এই যাবতীয় সমস্যার সমাধান করতে এবং সরকার ও হকার পক্ষের একাধিক বৈঠকেও সমাধান সূত্র না মেলায় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দেরি হয়। আঠারো মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করা হলেও তা করা যায়নি। অবশেষে সরকারপক্ষ ও হকার পক্ষের দাবি দাওয়াগুলি মধ্যপন্থা খুঁজে বার করে অবশেষে উদ্বোধন হতে চলেছে বহুচর্চিত কালীঘাট মন্দিরের এই স্কাইওয়াক। কাইওয়াক তৈরিতে কালীঘাট মন্দিরের পুণ্যার্থীরা যথেষ্ট খুশি হলেও স্থানীয় দোকানদার বা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো বেশ কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। কাইওয়াক তৈরি হলে তাদের ব্যবসায় যথেষ্ট ক্ষতি হবে বলেও মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পুজো উপাচার সংক্রান্ত ছোট ব্যবসায়ীদের আলাদা ব্যবস্থা করা গেলেও অন্যান্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা মন্দা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কলকাতার অন্যতম আইকন এবং ৫১ সতী পিঠের এক পিঠ এই কালী ক্ষেত্রের মানোন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের স্কাইওয়াক তৈরি প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন সকলেই।
