নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া ৭৩টি মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন। তবে অন্তর্বর্তী কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার।
আদালতে পিটিশনকারীদের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি অভিযোগ করেন, সংশোধিত আইন সংবিধানের ২৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করছে, যা ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জেলা শাসক যেহেতু সরকারের অঙ্গ, তিনি কীভাবে ধর্মীয় সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? ‘ওয়াকফ বাই ইউজার’ সংক্রান্ত ধারাও ইসলাম ধর্মের একটি অপরিহার্য অংশ বলেও দাবি করেন তিনি।
বিপরীতে, সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, নতুন আইন দীর্ঘ আলোচনার পর সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক পুরনো মসজিদ বা ধর্মীয় সম্পত্তির নথি না থাকলেও তা নথিভুক্তকরণে বাধা নয়।
সুপ্রিম কোর্টের মূল প্রশ্ন ছিল— হিন্দুদের ধর্মীয় বোর্ডে কি মুসলিম সদস্য থাকতে পারেন? তাহলে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্য নিয়োগ কি যুক্তিযুক্ত? বেঞ্চ জানায়, নতুন আইনে এই বিষয়টি অস্পষ্ট। পাশাপাশি তারা পর্যবেক্ষণ করে যে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তকরণ হওয়া উচিত, কিন্তু তাতে ঐতিহাসিক বাস্তবতা মাথায় রাখতে হবে।
প্রধান বিচারপতি জানান, এই বিষয়ে কোনও একটি হাই কোর্টকে শুনানির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তাঁর মতে, হাই কোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে।
এই আইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে অসন্তোষ ও অশান্তির ঘটনাও উঠে এসেছে আদালতের নজরে। প্রধান বিচারপতি একে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
