মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় শুরু হওয়া প্রতিবাদ বদলে হয়েছে ভয়াবহ হিংসার ঘটনায়। আগেই কেন বোঝা গেল না, যে এই ধরনের ঘটনা ঘটতে করে ঘটতে পারে? যে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের অধীনস্ত গোয়েন্দা বিভাগের বিরুদ্ধে সেটাই কি সত্যি? ঘটনার জন্য গঠন করা রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর সদস্যের একাংশ এমনটাই নাকি মনে করছেন!
এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ কিছু না জানালেও, প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু না জানানো হলেও ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’র বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে সিট-এর প্রথম বৈঠকে বলে খবর। পুলিশ জানায়, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের স্থানীয় থানায় সিট-এর প্রথম বৈঠক হয়। ২০ জন সদস্যকে নিয়ে গঠিত সিট-এর ন’জন প্রতিনিধি সেই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। তদন্তকারী দলের প্রধান তথা রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকারও ছিলেন বৈঠকে।
সম্প্রতি ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদের নামে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি, জঙ্গিপুর, ধুলিয়ানে যে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তার তদন্তের জন্য ২০ সদস্যের সিট- এ রয়েছেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার আনন্দ রায়, সংশ্লিষ্ট তিন থানা অর্থাৎ সুতি, সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কার তিন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বা ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সুপার এবং সিআই পদমর্যাদার কয়েকজন আধিকারিক।
সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন অফিসার জানান, মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায়’গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ ছিল। এইক্ষেত্রে মূলত দু’টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এক, গোটা ঘটনার গুরুত্ব আগের থেকে অনুমান করতে না পারা এবং দুই – হিংসা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিকভাবে তা আটকাতে না পারা। ঘটনার নেপথ্যে ‘পূর্ব পরিকল্পনা’ও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বুধবার রাতের বৈঠকে। কিন্তু এই চক্রান্তের পিছনে রয়েছে কারা সেটাই প্রশ্ন? মূলচক্রীদের নাগাল পেতে দ্রুত বালক বা কিশোরদের জেরা করতে চাইছে তদন্তকারীরা।
