“বিয়ে করা কি অন্যায়?” ঘনিষ্ঠ মহলে দিলীপ
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
———————–‐-
কুমারত্বে ইতি টানছেন দিলীপ ঘোষ। ‘মেজাজটাই যার আসল রাজা’ সেই “দিলীপের বিয়ে” নিয়ে শোরগোল পড়েছে প্রচারমাধ্যমে, চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতেও। ঘনিষ্ঠ মহলে দিলীপ জানিয়েছেন “বিয়ে করা কি অন্যায় নাকি? আমি কি বিয়ে করতে পারি না?”
ঠিকই তো। একজন ৬১ বছরের ব্যক্তি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবেন এটা নিয়ে এত শোরগোলের কি আছে?
আসলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবেই রাজনীতিতে প্রবেশ দিলীপ ঘোষের। দু’-একটি ব্যতিক্রম থাকলেও RSS-এর প্রচারকদের সিংহভাগই অবিবাহিত। দিলীপও এতদিন একাকীই জীবন কাটিয়েছে। রাজনীতিক হিসেবে গরম সংলাপ, ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাবের জন্যই বরাবর পরিচিত দিলীপ। অকৃতদার দিলীপ ঘোষ শাসকপক্ষ বা বিরোধীদের “বুকের উপর পা তুলতে” দ্বিধা করেন না তিনি। তার গায়ে হাত তুললে “হাত কেটে ফেলার” ক্ষমতা রাখেন তিনি। এহেন ‘মেজাজি’ দিলীপ এবার চার হাত এক করছেন তারই দলের দক্ষিণ কলকাতা মহিলা মোর্চার নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারের সঙ্গে। ২০১৫ সালে বিজেপি-তে যুক্ত হন দিলীপ। সে বছর ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সভাপতি হন। ২০১৬ সালে খড়্গপুর থেকে বিধায়ক এবং ২০১৯ সালে মেদিনীপুর থেকে জয়লাভ করে সাংসদ হন। কিন্তু তাঁর জীবনে মেঘ নেমে আসে গত বছর। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আচমকা আসন পাল্টে দিলীপকে খড়্গপুর থেকে দুর্গাপুর-বর্ধমান আসনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নির্বাচনে পরাজিত হন এই মেজাজি নেতা। আসন বদলে মনোকষ্ট লুকিয়ে রাখেননি দিলীপ। দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে সেই সময় ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন দিলীপের অনুরাগীরা। রাজনীতিতে এতদিন জমিয়েই ব্যাটিং করেছেন দিলীপ। মাঝে রাজনীতিতে দাপট কিছুটা কমলেও মেজাজ পাল্টায়নি এতটুকু। এবার জীবনের সিদ্ধান্ত বদলে এক থেকে দুই হচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বিয়ের খবরেও সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।
শুক্রবার দিলিপের নিউটাউনের বাড়িতে আইনি মতে বিয়ে। পরে সনাতনী রীতি মেনে বরের পিঁড়িতেও বসবেন দিলীপ ঘোষ। পাত্রের বয়স ৬১, পাত্রীর বয়স ৫১। এই বিয়েতে ২৫ বছরের ছেলের অনুমতি নিয়েছেন পাত্রী রিঙ্কু। অন্যদিকে মায়ের পিড়াপিড়িতেই টোপর মাথায় দিতে চলেছেন দিলীপ ঘোষ। জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে রিঙ্কুর সঙ্গে পরিচয় দিলীপের। কলকাতার ইকোপার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়েই রিঙ্কুর সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। এরপর দুজনের বন্ধুত্ব গড়ায় বেশ কিছুদিন। দিলীপ ঘোষের মা পুষ্পলতা দেবীর কাছের মানুষ হয়ে যান রিঙ্কু। রিংকুর কথাতেই ছেলের সঙ্গে কথা বলেন মা পুষ্পলতা। মায়ের অবর্তমানে কে দেখবে? মায়ের এই প্রশ্নটাই দিলিপের কাছে জীবনের মত ও পথ বদলে দেয়। চলতি আইপিএলে ইডেন গার্ডেন্স এ কেকেআরের ম্যাচ দেখতে যান দিলীপ ঘোষ। ছিলেন রিঙ্কু মজুমদারও। জানা যায় ইডেনের প্রেস বক্সেই দুজনার বিয়ের কথা পাকা করেন দুজনায়। তারপরই মাকে নিজের সিদ্ধান্ত জানান দিলীপ। অবশেষে চার হাত এক করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ঘোষ পরিবার।
এ তো দুই পরিবারের গল্প। কিন্তু নিন্দুকেরা তো বলছেন অন্য কথা। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই বিরতি থেকে ফিরে আচমকা নতুনভাবে দিলীপ ঘোষের পুরনো মেজাজ দেখে রাজ্য বিজেপি সভাপতি হিসেবে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে চর্চা শুরুও হয় রাজ্য রাজনীতিতে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে সভাপতি পরিবর্তনে রাজি নয় বিজেপি হাই কমান্ড। এক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষের ভাগ্যে এই মুহূর্তে শিকে ছেড়ার সম্ভাবনা কম। অতএব, রাজনীতির পাঠ ছেড়ে এবার ঘরকন্যায় মন দিলীপের?
