মুর্শিদাবাদ যেন এক ধোঁয়াশা! একদিকে আগুন, আতঙ্ক আর ঘরছাড়া মানুষের কান্না; অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এই টানাপোড়েনের মাঝেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট দিল এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, “এনআইএ নয়, আগে মানুষের পাশে দাঁড়াক প্রশাসন।” তাই আপাতত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) নয়, বরং তিন সদস্যের একটি নিরপেক্ষ কমিটি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে বলে নির্দেশ দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর বেঞ্চ জানায়, “মানুষের নিরাপত্তা আগে, রাজনীতি পরে।” এনআইএ তদন্তের দাবিতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল এবং সংযুক্তা সামন্ত। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন নেই। কেন্দ্র চাইলে নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত শুরু করতে পারে, তবে তা আদালতের নির্দেশে নয়।
তিন সদস্যের যে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে থাকবেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজ্য মানবাধিকার কমিশন ও রাজ্য লিগাল সার্ভিসেস অথরিটির একজন করে প্রতিনিধি। এঁরাই হিংসার কবলে পড়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াবেন, দেখে আসবেন কে কোথায় ঘরছাড়া, কার কতটা ক্ষতি হয়েছে, কারা এখনও মুখ খুলতে পারেননি, তাঁদের অভিযোগ দায়ের করতেও সহায়তা করবে এই কমিটি।
এদিকে, রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জঙ্গিপুরে ২৭৪ জন এবং মুর্শিদাবাদে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩৮টি ঘরছাড়া পরিবার ঘরে ফিরেছে, সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
আদালত আরও জানায়, প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল চাইলে মালদহে গিয়ে আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
হাইকোর্টের এই রায় শুধু আইনি নির্দেশ নয়, বরং সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এক বার্তা, হিংসার গন্ধে নয়, এবার মুর্শিদাবাদে ফিরুক মানুষের নিশ্বাস, ফিরুক শান্তি।
পরবর্তী শুনানি ২৩ এপ্রিল।
