সকাল থেকে যেন অস্বাভাবিক এক ব্যস্ততা, পরিচিত মুখদের আনাগোনা, গাড়ির ভিড়, নিরাপত্তারক্ষীদের টানটান প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত ভিলাটি আচমকা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচ্যস্থানে পরিণত হয়েছে। ভোর হতেই সাংবাদিকদের ক্যামেরা ঘুরে বেড়াতে শুরু করে ভিলার চারপাশে, কিন্তু সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—কারা কারা এলেন, আর কী কী হচ্ছে ভিতরে?
একসময়ে যিনি সঙ্ঘ প্রচারক ছিলেন-যার মূল শর্তই ছিল অবিবাহিত থাকা-সেই দিলীপ ঘোষ আজ নিজের নতুন জীবনের শুরু করতে চলেছেন। জীবনের অনেকটা সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাটিয়েছেন তিনি। তারপর ২০১৫ সালে সঙ্ঘের তরফে পাঠানো হয় রাজনীতির আঙিনায়। হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এরপর বিধায়ক এবং সাংসদ হিসেবে সফল রাজনৈতিক পথচলা। আজ তার বিয়ে বলে কথা।
তবে আজকের দিন শুধুই রাজনীতির বাইরে, একান্তই ব্যক্তিগত। সূত্রের খবর, মা পুষ্পলতা ঘোষ বেশ কিছুদিন ধরেই চাইছিলেন ছেলে যেন ঘর বাঁধে। অতীতে ছেলের অনিশ্চিত, ব্যস্ত জীবনযাপন দেখে উদ্বিগ্ন থাকতেন তিনি। আদরের ‘নাড়ু’র সংসার গড়ার খবরে এবার নিশ্চিন্ত মা।
বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় থাকতে পারছেন না। তাই সকালই সকালই দিলীপের হাতে উপহারের ব্যাগ তুলে দিলেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দিলেন মিষ্টি, ধুতি, ফুল।এছাড়াও পৌঁছে যান লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো-সহ আরো অন্যান্য বিজেপি নেতা নেতৃত্ব গন। দিলীপ ঘোষের নিউটাউনেরর বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ থাকেন তাঁরা। এবং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আগামী দিনের পথ চলার শুভেচ্ছা বার্তা জানান।
আজকের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত কেবল দুই পরিবারের সদস্যরা। খাবার মেনু নিয়েও চলছে কৌতূহল। সূত্র অনুযায়ী, সম্পূর্ণ নিরামিষ না হলেও মাংস থাকবে না। থাকবে মাছের নানা পদ-চিংড়ি, ভেটকি, কাতলা, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, ফিশফ্রাই, মুগডাল সহ নানা ঐতিহ্যবাহী পদ।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি দিলীপ ঘোষের সহধর্মিণী হতে চলেছেন রিঙ্কু মজুমদার। তিনিও বিজেপির সক্রিয় কর্মী। ছেলের বিয়ের খবরে খুশি হয়েছেন মা পুষ্পলতা। হিন্দু রীতি মেনে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদের বিয়ের পর্ব সম্পন্ন হবে। যা নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও।
