প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের জগতে ভারতের অংশগ্রহণকে আরও বেগবান করতে আবারও আলোচনার টেবিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। শুক্রবার এই দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলগত সহযোগিতা গড়ে তোলা।
ফোনালাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, মাস্কের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে একাধিক বিষয়ে। তিনি লেখেন, “একাধিক বিষয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচন হল ৷ দেশে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচন হয়েছে ৷”
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণের পর মার্কিন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ ওয়াশিংটন ডিসি-তে দু’জন বৈঠকও করেন ৷ শুক্রবার সেই বিষয়েও মাস্কের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী ৷ সেই সঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্বার্থে আমেরিকার অংশীদার হতে চায় ভারত ৷” আর সেই লক্ষ্যে এদিনের এই ফোনালাপ ৷
বিশেষভাবে, ভারতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রসার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ভারতীয় প্রযুক্তি-খাতে এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে বিশ্বমানের উদ্যোগের সঙ্গে দেশের নিজস্ব প্রতিভা ও সম্পদ একসাথে কাজ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, মাস্কের সঙ্গে এই আলোচনা নিছক ফোনালাপ নয়। এর পেছনে রয়েছে পূর্ববর্তী একাধিক বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিত, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনা। সে সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ বিজ্ঞান এবং উদ্ভাবনমুখী প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে মোদি ও মাস্কের মধ্যে এক বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও গভীর করার রূপরেখা প্রণয়ন হয়।
তবে এইবারের ফোনালাপের গুরুত্ব আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ প্রশাসন কাঠামোতেও ইলন মাস্কের গুরুত্ব বাড়ছে ক্রমশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে তাঁকে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (DOGE) প্রধান পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই বিভাগটি মার্কিন প্রশাসনের ব্যয় ও দক্ষতা নিরীক্ষণ করে, অর্থাৎ মাস্ক এখন শুধু বেসরকারি উদ্যোক্তা নন—তিনি মার্কিন সরকারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে মোদির সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ভারতের জন্য শুধু কৌশলগত নয়, রাজনৈতিক ভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান এখন শুধু গ্রহণকারী নয়, বরং সমান অংশীদারের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে।
