রবিবারই খ্রিস্টান ক্যাথলিক ধর্মালবলম্বীদের উদ্দেশে ইস্টারের বার্তা দিয়েছিলেন পোপ ফ্রান্সিস। আর তার একদিন পরেই প্রয়াত হলেন তিনি।সোমবার ভ্যাটিকানের একটি ভিডিয়ো বার্তায় তাঁর মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। ভ্যাটিক্যানের টেলিভিশন চ্যানেলে কার্ডিনাল কেভিন ফারেল এক বিবৃতিতে পোপের মৃত্যুর ঘোষণা করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের পবিত্র পিতা ফ্রান্সিস আর আমাদের মাঝে নেই।” তিনি আরও জানান “আজ সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে রোমের বিশপ, ফ্রান্সিস, স্বর্গীয় পিতার গৃহে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাঁর সমগ্র জীবন ছিল প্রভু ও গির্জার সেবায় উৎসর্গীকৃত।”
তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দুই ফুসফুসে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। ২১ বছর বয়সে তার একটি ফুসফুসের অংশ বাদ দিতে হয়।যার জেরে সমস্যা ছিলই, সম্প্রতি তা গুরুতর আকার নেয়। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে লাতিন আমেরিকার প্রথম পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা ফ্রান্সিস ছিলেন চার্চের ইতিহাসে প্রবীণতম পোপদের একজন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দুই ফুসফুসে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি রোমের একটি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন।রবিবার আচমকাই তিনি হাজির হন ইস্টারের বিশেষ জমায়েতে।সেন্ট পিটার্স স্কোয়্যারে ৩৫ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থীর দিকে হাত নাড়েন। এদিনই পোপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। পোপের সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য একান্তে আলোচনাও করেন তিনি। ইতালি থেকেই সরাসরি ভারতে এসেছেন জেডি ভান্স।
২০১৩ সালে বেনেডিক্ট (১৫) পদত্যাগ করার পর পোপ হয়েছিলেন ফ্রান্সিস।পোপ ফ্রান্সিস, দরিদ্রদের পক্ষে সোচ্চার এক কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন।তিনি ক্যাথলিক চার্চকে নতুনভাবে গড়েও তুলেছিলেন।প্রায় ১২ বছর পোপ থাকাকালীন ভ্যাটিকানের ধারাবাহিক সিস্টেমের বিরাট পরিবর্তন আনেন তিনি। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিনি ছিলেন ৭৪১ সালের পর প্রথম নন-ইউরোপিয়ান পোপ। ৭৪১ সালে সিরিয়ান বংশোদ্ভূত তৃতীয় গ্রেগরির মৃত্যুর পর রোমে আর কোনও নন-ইউরোপিয় পোপ আসেননি।প্রথম ইউরোপের বাইরে থেকে আসা একজন পোপ হিসেবে ফ্রান্সিস দরিদ্র, অভিবাসী এবং পরিবেশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ক্যাথলিক গির্জায় সংস্কার কখনো বন্ধ করেননি।তারপরও তিনি সকলের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি ব্যাপক প্রসার ঘটান। ৬৫টি দেশে ৪৭ বারের বেশি সফর করেছিলেন পোপ।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
