সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে যাওয়ার শর্তাধীন অনুমতি পেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারি। ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে ধুলিয়ানে যেতে হবে বিরোধী দলনেতাকে। শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীরা তার সঙ্গে যেতে পারবেন। তার সঙ্গী হিসেবে থাকতে পারবেন মুর্শিদাবাদ এর বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ। কোন মিছিল বা কোন বক্তৃতা রাখতে পারবেন না বিরোধী দলনেতা। স্থানীয় মানুষ বা দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নেওয়া যাবে না। এই একাধিক শর্তের মাধ্যমে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে যাওয়ার পরামর্শ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
বুধবার ডিভিশন বেঞ্চের কাছে বিরোধী দলনে তাকে ধুলিয়ানে যাওয়ার আবেদন জানান শুভেন্দুর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। ধুলিয়ানের বহু মানুষ এখনও ভীত-সন্ত্রস্ত এবং ঘরছাড়া। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ধুলিয়ানস ও মুর্শিদাবাদের অন্যান্য অংশে গিয়েছেন। যদিও বিরোধী দলনেতা মুর্শিদাবাদে গেলেই তা নিয়ে আপত্তি তোলা হচ্ছে শাসকদলের পক্ষ থেকে। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের কাছে কোন আবেদন করা হয়নি বলে আদালতকে জানান রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। প্রশাসনের কাছে কোন আবেদন না করেই সরাসরি আদালতে এসে মামলা করায় বিরোধী দলনেতার অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে বলেও আদালতকে জানান এডভোকেট জেনারেল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক অশ্লীলতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি কেন চাওয়া হয়নি? বিচারপতি সৌমেন সেনের প্রশ্নের শুভেন্দুর আইনজীবী জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে? সন্ত্রস্ত এলাকায় বিরোধী দলনেতা গেলে যাতে তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকে সে কারণেই হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে জানান শুভেন্দুর আইনজীবী। যদিও এই ধরনের আবেদনে গ্রহণ করে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে হাইকোর্টের। এই প্র্যাকটিস বন্ধ হওয়া দরকার বলেও জানান এডভোকেট জেনারেল। দুপক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে ডিভিশন বেঞ্চ একাধিক শর্তসাপেক্ষে বিরোধী দলনেতাকে ধুলিয়ানে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
