আমেরিকা,রাশিয়া, ইতালি সহ বিভিন্ন দেশ দিনের দিন পহেলগাঁওের বাইসারানে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার নিন্দা ও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেও পড়শি দেশ পাকিস্তানের লেগে গেল একদিন সময়।এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী বুধবার পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলায় পর্যটকদের উপর হামলায় নিহতদের মৃত্যুতে আমরা উদ্বিগ্ন। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।”
অথচ একদিন আগেই এই হামলার দায় নিয়েছে লস্কর-ই- তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ বা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। মঙ্গলবার রাতেই এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে পাক জঙ্গিগোষ্ঠীটি।গত বছর জুন মাসে জম্মু-কাশ্মীরের রেইসি জেলায় পুণ্যার্থীদের একটি বাসে হামলা চালিয়েছিল টিআরএফ। মৃত্যু হয় অন্তত ১০ জন পুণ্যার্থীর। ন্যাক্কারজনক এই হামলার পর বড় আকারে তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনী, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ হামলার এলাকা ঘিরে ফেলেছে। হামলার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বহুস্তরে তদন্ত ও সন্ত্রাস দমন অভিযান শুরু করেছে। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) একজন ইন্সপেক্টর জেনারেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দলকে পহেলগাঁওে পাঠিয়েছে, যারা স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করছে।
কিন্তু কেন এই সময়ে হামলা? বলা হচ্ছে কাশ্মীরে এখন পুরোদস্তুর পর্যটন মরশুম। তার মধ্যে আছে অমরনাথ যাত্রা।ঠিক এই সময়ে লক্ষ লক্ষ হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মনে আতঙ্ক ছড়াতেই এই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।পাশাপাশি আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগত সফরে এখন ভারতে।আমেরিকার দ্বিতীয় নাগরিকের নাকের ডগায় হামলা চালাতে পারলে তা আন্তর্জাতিক প্রচারের আলোয় আসবে এমন ভাবনাও এই হামলার পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।পাশাপাশি কাশ্মীরে যে শান্তি-স্থিতাবস্থা ফেরেনি তাও জঙ্গিরা এই হামলায় প্রমাণ করতে চেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেশ কিছু ধরেই ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গিরা। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার ভোরে জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লায় ৩ সন্ত্রাসবাদী অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। দু’জনকে ২ জনকে নিকেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বারবার সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির পিছনে পাকিস্তানের হাত দেখছেন অনেকে।কদিন আগেই বালোচ বিদ্রোহীদের সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তান সেনা প্রধান ভারতীয় সেনাকে খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি কাশ্মীর নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির বলেন, “কাশ্মীর ইসলামাবাদের ‘জীবনরেখা’ ছিল, আছে এবং থাকবে।” তাঁর কথায়, “কাশ্মীর হল পাকিস্তানের জিউগুলার ভেন।“ তিনি আরও বলেন, “আমরা একে ভুলবো না। আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামকে আমরা কখনো ছেড়ে দেব না।” পাশাপাশি তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত দুই-জাতি তত্ত্বকেও সমর্থন জানান।
বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নিয়েও তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।তিনি বলেন, “আপনাদের কি মনে হয় এই জঙ্গিরা পাকিস্তানের ভাগ্য বদলে দেবে? আমরা ১৩ লক্ষ ফৌজের ভারতীয় সেনাকেই ভয় পাই না। তাহলে এই জঙ্গিরা কী করে পাক সেনাকে হারাবে?”
পাক সেনাপ্রধানের এই ভারত-বিরোধী মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার বিদ্বেষ আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে তখনই অনুমান করা হয়েছিল।পহেলগাঁওের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে হামলাকারী চার জঙ্গির ছবি। তাঁদের মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি আর অন্য অন্য দু’জন কাশ্মীরের বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান থেকে একদল জঙ্গি কাশ্মীরে এসেছিল। হামলার আগে বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থল রেইকিও করে তারা।
