দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি
রাখে হরি মারে কে। কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়ে ভাগ্যের জোরে প্রাণে বেঁচে গিয়ে হোটেলবন্দী হয়ে সারারাত কাটালেন হুগলির কেওটা টায়ার বাগানের বাসিন্দা চঞ্চল দে ও তার পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে হোটেল থেকে বেরিয়ে পহেলগামের উদ্দেশ্যে চঞ্চল বাবু তার স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পহেলগাম পৌঁছানোর আগেই রাস্তায় খবর পান যে সেখানে গুলিগোলা চলছে। জঙ্গিরা পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়েছে। বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাই শেষ পর্যন্ত পহেলগাম না গিয়ে হোটেলে ফিরে এসেছেন। বরাতজোরে নতুন জীবন পেয়েছেন বলে মনে করছেন চঞ্চল বাবু।
চঞ্চল বাবু পেশায় হুগলির একটি হাই স্কুলের শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন চলতি মাসের ১৬ তারিখ স্কুলের সহকর্মীরা এবং নিজের পরিবার নিয়ে মোট ১১ জন কাশ্মীর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ২৬ এপ্রিল অমৃতসর থেকে ট্রেনে বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু তার আগেই এই ধরনের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনায় পুরো পর্যটক দলটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
চঞ্চল বাবু জানিয়েছেন ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটা নাগাদ তারা পহেলগাম পৌঁছেছেন। জঙ্গিরা যেখানে হামলা চালিয়েছে সেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে একটি হোটেলে তিনি তার পরিবারকে নিয়ে উঠেছেন। হোটেলে মালপত্র রেখে তারা সকলে গাড়ি নিয়ে মেইন ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মেইন ট্যাক্সি স্ট্যান্ভ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে বৈশনর ভ্যালিতে যাওয়ার কথা। সেখান থেকে ১০০ থেকে ২০০ মিটার হাঁটার পর ঘোড়সওয়ারা তাদের ঘোড়ায় করে বৈশনর ভ্যালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। এই কথাবার্তার ফাঁকেই হঠাৎই গোটা পরিস্থিতিরই আমূল পরিবর্তন ঘটে। চঞ্চল বাবু ও তার সহকর্মীরা দেখেন হঠাৎ করেই মানুষ প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছেন। ফুটপাত থেকে দোকানদাররা তাদের দোকান গুটিয়ে পালাচ্ছেন। স্থানীয়রা ততক্ষণে বলতে শুরু করেছে উধার ফায়ারিং হো রহা হ্যায়। সব ভাগো। গোটা পর্যটক দলটি তখন রীতিমতো ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। চঞ্চলবাবু তড়িঘড়ি গাড়ির ড্রাইভারকে ফোন করে হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ততক্ষণে রাস্তায় কয়েকশো গাড়ির লাইন লেগে গেছে। উল্টো দিক থেকে সেনাবাহিনীর গাড়ি আর পঞ্চাশের বেশি অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়ে ছুটে আসছে। এইরকম পরিস্থিতিতে কোনক্রমে তারা হোটেলে ফিরে আসেন। সারারাত তারা হোটেল বন্দী হয়েই ছিলেন। গোটা এলাকা সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছে।
চঞ্চল বাবু আরো জানান সারারাত তারা ঘুমোতে পারেন নি। বিশেষ করে তার আট বছরের ছেলে এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে মাঝেমধ্যেই কান্নাকাটি করছিল। কাঁদতে কাঁদতে বমি করার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক কষ্টে তিনি তার ছেলেকে বুঝিয়ে শান্ত করেছেন। কোনরকমে রাতটুকু হোটেলে কাটিয়ে বুধবার সকালবেলায় গাড়ি নিয়ে জম্মুর উদ্দেশ্যে তারা রওনা দেন। কিন্তু সেখানেও আর এক বিপত্তি রাস্তায় এক জায়গায় ধস নামায় গাড়ি চলাচল বন্ধ। তাই ঘুর পথে অন্য রাস্তা দিয়ে অনেকটা ঘুরে তারা জম্মু পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে কেওটার টায়ারবাগানের বাড়িতে চঞ্চল বাবুর দাদা তাপস দে ও বৌদি বাসন্তী দে জঙ্গি হামলার ঘটনার খবর শোনার পর থেকেই রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। বুধবার সকালে চঞ্চল বাবুর সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার পর অনেকটাই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছে দে পরিবার।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
