দফায় দফায় শুল্ক বাড়ানোর পথ ছেড়ে চিনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন চিনের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ নিয়ে ইউটার্ন নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তখন বেজিং জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা চালানোর জন্য তাদের দরজা ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ রয়েছে। তবে চিন জানিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের লাগাতার হুমকির পরিবেশ থাকলে তারা আলোচনা চালাতে রাজি নয়।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বুধবার বলেন,”মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপানো শুল্ক যুদ্ধ নিয়ে চিনের অবস্থান খুব স্পষ্ট, আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু ভয়ও পাই না। যদি যুদ্ধ হয়, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব; আর যদি আলোচনা হয়, দরজা পুরোপুরি খোলা আছে।”
গত ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেন ট্রাম্প। এর পর থেকে কয়েক দফায় চিনের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে তাঁর প্রশাসন। প্রসঙ্গত, ধাপে ধাপে চিনা পণ্যের উপর শুল্কের বোঝা বাড়িয়ে গিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকায় আমদানি হওয়া চিনা পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এখন ২৪৫ শতাংশ! শুল্ক বাড়লেও তা নিয়ে আলোচনার জন্য বিভিন্ন দেশ ৯০ দিনের ছাড় পেলেও এই ‘ছাড়’ পায়নি শুধু চিন। আমেরিকার এই একপেশে সিদ্ধান্তে পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে যায় বেজিং। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপে চিনও কম যায়নি। বেইজিং দফায় দফায় পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ শতাংশে। সংঘাতের এই আবহে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানিয়েছেন যে শুল্ক যথেষ্ট পরিমাণে কমানো হবে। তবে সেটা শূন্যও করা হবে না। সেই সঙ্গেই তাঁর ঘোষণা ছিল যে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে চিন কী পদক্ষেপ করে, তার উপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করবে।
এই প্রেক্ষিতে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জোর দিয়ে জানিয়েছেন, “ওয়াশিংটন যদি আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায়, তবে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং সমান পদক্ষেপে চিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।” তিনি আরও বলেন যে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করতে চাইবে আবার চিনের উপর চরম চাপ সৃষ্টি করবে—এই কৌশল কার্যকর হবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ কোনো যুক্তি ছাড়াই গত ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপ করেছেন বলে অভিযোগ অনেকের। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা হল চিন সরকার আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য হ্রাসের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি সহ্য করতে পারবে না। তথ্য বলছে চিনের মোট জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশ আসে রপ্তানি থেকে। আর এই রপ্তানির ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ যায় যুক্তরাষ্ট্রে।
তবে ট্রাম্প যেভাবে এই শুল্ক আরোপ করেছেন, তা চিন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে। এই অবস্থায় অর্থনৈতিক মন্দা হলে জনগণ দেশীয় নীতির দোষ না দেখে অর্থনৈতিক কষ্টের জন্য আমেরিকাকে দায়ী করবে। চিন সরকারের দাবি বাণিজ্য দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক এবং বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হতে পারে না। কাজেই আগামী দিনে আমেরিকা চিন বাণিজ্যের লড়াই কোন পথে যায় সেটাই দেখার।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
