সিএবিকে উদ্যোগ নিতে নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, সাহায্যে রাজ্য
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কলকাতায় তৈরি হতে চলেছে দ্বিতীয় ইডেন গার্ডেন্স। আজ এমনই ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুটবলের জন্য সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সহ আরো একাধিক স্টেডিয়াম কলকাতা শহর এবং শহরতলিতে থাকলেও ক্রিকেটের জন্য সবেধন নীলমণি সেই ইডেন গার্ডেনস। অথচ রাজ্য জুড়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলার চাহিদা বাড়ছে এবং নানা ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজিত হচ্ছে তাতে উন্নত মানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গেলে ইডেন ছাড়া অন্য কোন গতি নেই। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি-কে কলকাতা তথা কলকাতার উপকণ্ঠে আরও একটি নতুন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু ক্রিকেট স্টেডিয়ামই নয় ডুমুর জেলায় ক্রিকেট একাডেমি তৈরি করতেও যাবতীয় ব্যবস্থাপনা শুরুর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ রবীন্দ্র সদনে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সিএবি সভাপতি স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়। সিএবি সভাপতি কে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন” রাজ্যে ক্রিকেট নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এবং ক্রিকেট খেলার যে উৎসাহ বাড়ছে তাতে নতুন একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইডেন গার্ডেনস এর পাশাপাশি আরও একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরির জন্য যাবতীয় উদ্যোগ নিক হবে সিএবি। তার জন্য রাজ্য সরকার যা যা সাহায্য প্রয়োজন তা করবে। আইন মেনে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়াম করা হবে।” নির্দিষ্টভাবে কোন জায়গার নাম মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ না করলেও সরকারি সূত্রে জানা গেছে কলকাতার উপকণ্ঠে রাজারহাটে নতুন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য জমির সংস্থান করতে চায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সরকার একা সবকিছু করতে পারে না। তার জন্য সমাজকেও এগিয়ে আসতে হয়। এখন খেলাধুলায় সুযোগ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি পরিকাঠামোর উন্নয়নও প্রয়োজন। দেশ গঠনের জন্য খেলাধুলা কে গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই ছোট থেকেই খেলোয়ারদের গ্রুমিংয়ের প্রয়োজন। তিনি নিজে যখন দেশের ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন তখন খেলাধুলার উন্নয়নে অনেক গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলেও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায় ” একমাত্র খেলাধুলায় কোনও জাতপাত হয় না। ভারতীয় দলের ক্যাপ্টেন শুধুমাত্র ক্যাপ্টেন হিসেবেই পরিচিত হন। তিনি কোন জাতের তার বিচার হয় না।” যদিও পরিশেষে আক্ষেপের সুরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুযোগ ” শুধু মন্ত্রীদের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। যারা নিচু তলায় কাজ করেন তাদেরও উদ্যোগ নিতে হবে।”
