বৃহস্পতিবারের পর ফের শুক্রবার রাতেও বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে রাতভর গুলি চালিয়েছে পাক সেনা।গুলি ছোড়া হয়েছে ভারতীয় সেনাঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে।তবে এর পাল্টা মোক্ষম জবাব দিয়েছে ভারতও। একদিকে কাশ্মীর জুড়ে চলছে ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান। অন্যদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে বারবার গুলি বর্ষণের জেরে সব মিলিয়ে পহেলগাঁও হানার পর থেকে তপ্ত ভূস্বর্গ। জম্মু ও কাশ্মীরে শুক্রবার রাতে, পাকিস্তানের সমস্ত পোস্টের দিক থেকে ধেয়ে আসে গুলি। তার মোক্ষম জবাব দিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করেছে ভারতও।
পহেলগাঁওয়ে হামলার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার রাতেও পাকিস্তানি সেনারা লাইন অফ কন্ট্রোল জুড়ে ভারতীয় চৌকিগুলোতে গুলিবর্ষণ করে।ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে কার্যত সীমানা হিসেবে থাকা এলওসি জুড়ে একাধিক পাকিস্তানি চৌকি থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তবে এই গোলাগুলিতে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁওয়ে গত ২২ এপ্রিলের জঙ্গিহানায় পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের যোগ থাকলেও ঘটনার দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ খান।কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে প্যারেড পরিদর্শনের সময় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন ‘‘আমরা যে কোনও স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত”। অন্যদিকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ পহেলগাঁও সন্ত্রাসের দায় এড়ানোর পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন ভারতের তরফে সামরিক পদক্ষেপ হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রত্যাঘাত করা হবে।
এদিকে এই ঘটনার জেরে উস্কানিমূলক মন্তব্যও কম করছে না পাকিস্তান।কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার জেরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। তাঁর মধ্যে একটি হল সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখা।এই সিদ্ধান্তের পরই হুঙ্কার দিয়ে পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন,’হয় সিন্ধুতে জল বইবে না হলে ভারতীয়দের রক্ত’। শুক্রবার এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান।
তবে পাকিস্তান হুঙ্কার দিলেও সন্ত্রাস ইস্যুতে নরম হতে নারাজ ভারত।কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল আরও একবার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন জানিয়েছেন, “পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাতে আমরা নিশ্চিত করব যাতে সিন্ধু নদ থেকে এক ফোঁটা জলও পাকিস্তানে প্রবাহিত না হয়।”
পাহেলগাঁওয়ে গত মঙ্গলবার সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।অন্যদিকে হাফিজ সইদের নাম এবার উঠে এসেছে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলাতে।জানা যাচ্ছে ২৬/১১ হামলার মূল হোতা ও লস্কর প্রধান হাফিজ সাঈদ এই হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চালনা করেছিলেন।হাফিজ ও তার প্রধান সঙ্গী সইফুল্লাই পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম।সূত্রের খবর, পাকিস্তানে বহাল তবিয়তে রয়েছেন হাফিজ সইদ। মুম্বই হামলার পরেই ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি তালিকায় উঠে এসেছে হাফিজ সইদের নাম।রাষ্ট্রসংঘে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত হওয়া হাফিজের মাথার দাম এক কোটি ডলার ধার্য করেছে আমেরিকা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
