টিম ইন্ডিয়ার প্রধান কোচ এবং দেশের প্রাক্তন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান গৌতম গম্ভীরের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে দিল্লি পুলিশ। গম্ভীর সম্প্রতি দু’টি ইমেলের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন, যা ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে গুজরাট থেকে এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেফতার করে।
২২৪ এপ্রিল, ঠিক যেদিন জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁও-তে সন্ত্রাসবাদীরা নৃশংসভাবে ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে, সেদিনই বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে গম্ভীর দু’টি হুমকিসূচক ইমেল পান। মেইল দু’টিতে লেখা ছিল, “I kill you”, অর্থাৎ “আমি তোমাকে মেরে ফেলব”—এবং প্রেরক নিজেকে আইসিস কাশ্মীরের সদস্য বলে দাবি করেছিল। এই মারাত্মক হুমকি পাওয়ার পর গম্ভীর দিল্লির রাজেন্দ্র নগর থানায় এফআইআর দায়ের করেন।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দিল্লি পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। এরই ফলশ্রুতিতে, ২৬শে এপ্রিল গুজরাট থেকে ২১ বছর বয়সী জিগনেশ সিং পারমার নামে এক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট ইউনিট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেফতার হওয়া তরুণ মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে বলে তার পরিবার দাবি করেছে। তবে পুলিশ এই দাবি যাচাই করে দেখছে এবং পুরো ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সময়সূচি, পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতা, এবং কোচ গম্ভীরের রাজনৈতিক পরিচিতি, সবকিছু মিলিয়ে দিল্লি পুলিশ এই মামলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে গোটা দেশ গম্ভীরের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সবাই আশা করছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং গম্ভীর নিরাপত্তার দিক থেকেও আরও জোরদার সুরক্ষা পাবেন।
