পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত খবর প্রচার ও প্রকাশে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নতুন নির্দেশিকায়, সেনা অভিযানের সরাসরি সম্প্রচার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সংক্রান্ত লাইভ কভারেজ থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার জন্য সমস্ত সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর নির্মম জঙ্গি হামলার পরে কাশ্মীর জুড়ে ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে প্রতিদিন রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি চালাচ্ছে, যা নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে সীমান্ত এলাকায়। জঙ্গি দমন অভিযানের পাশাপাশি পাকিস্তানের এই উসকানিমূলক কার্যকলাপেরও পাল্টা ও কড়া জবাব দিচ্ছে ভারতীয় সেনা। গত কয়েকদিন ধরেই এই সংক্রান্ত খবর এবং ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল।এবার সেই তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে লাগাম টানতেই কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্দেশিকা জারি করল। উদ্দেশ্য, সেনা অভিযানের কৌশলগত তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা।
জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে যে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে –
১. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, সমস্ত মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, সংবাদ সংস্থা এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে তারা প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়াবলী নিয়ে প্রতিবেদন করার সময় বিদ্যমান আইন ও নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করেন এবং সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে্ন।
২. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: প্রতিরক্ষা অভিযান বা বাহিনীর চলাচল সংক্রান্ত কোনো রিয়েল-টাইম কভারেজ, চিত্র প্রচার বা “সূত্রভিত্তিক” তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন থেকে বিরত থাকতে হবে। সংবেদনশীল তথ্যের আগাম প্রকাশ শত্রুদের সহায়তা করতে পারে এবং অভিযানের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে।
৩. অতীতের ঘটনাগুলি দায়িত্বশীল প্রতিবেদন যে জরুরী তা প্রমাণ করেছে। কার্গিল যুদ্ধ, মুম্বাই সন্ত্রাসবাদী হামলা (২৬/১১) এবং কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের সময় অবাধ সম্প্রচার জাতীয় স্বার্থের উপর অপ্রত্যাশিত খারাপ প্রভাব ফেলেছিল।
৪. মিডিয়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিরা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধুমাত্র আইনি বাধ্যবাধকতার বাইরে, এটি আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব যাতে আমাদের সম্মিলিত কার্যক্রম চলমান অভিযান বা বাহিনীর নিরাপত্তার কোনো বিঘ্ন না ঘটায়।
৫. তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতিপূর্বেই সমস্ত টিভি চ্যানেলকে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সংশোধনী) বিধি, ২০২১ এর বিধি ৬(১)(পি) অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিধি ৬(১)(পি) অনুযায়ী বলা হয়েছে:
“কোনও কেবল পরিষেবায় এমন কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা উচিত নয় যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা কোনো সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের সরাসরি কভারেজ থাকে, যেখানে মিডিয়া কভারেজ কেবলমাত্র সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো কর্মকর্তার দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমায় ব্রিফিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে যতক্ষণ না ঐ অভিযান শেষ হয়।”
৬. এ ধরনের সম্প্রচার কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সংশোধনী) বিধি, ২০২১-এর লঙ্ঘন এবং এর আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য। অতএব, সমস্ত টিভি চ্যানেলকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেন তারা সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযান বা নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের সরাসরি সম্প্রচার না করে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে। মিডিয়া কভারেজ কেবলমাত্র সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার দ্বারা নির্ধারিত সময়সীমায় ব্রিফিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে যতক্ষণ না ঐ অভিযান শেষ হয়।
৭. সমস্ত অংশীদারদের অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা, সংবেদনশীলতা এবং দায়িত্বশীলতার সাথে প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখেন এবং জাতির সেবায় সর্বোচ্চ মান বজায় রাখেন।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
