আদালত অবমাননা এড়াতে যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা অনুযায়ী বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলায় জেলায় ডিআই বা স্কুল পরিদর্শকদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের তালিকা জেলায় জেলায় পাঠানো হলেও সেই তালিকা অনুযায়ী বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভাগীয় আধিকারিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনভাবেই যেন আদালতের নির্দেশ অমান্য না হয় সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে ডিআই অফিসের বিভাগীয় আধিকারিকদের। শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় ডিআইদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন রাজ্য শিক্ষা দপ্তর কে যোগ্য শিক্ষকদের যে তালিকা পাঠিয়েছে সেই তালিকা ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় কোন শিক্ষা পরিদর্শকদের পাঠিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। সেই তালিকার ভিত্তিতেই যোগ্য শিক্ষকদের স্কুলে স্কুল বেতনের টাকা মঞ্জুর করবে, ডিআই অফিসগুলো। বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনভাবেই অযোগ্য শিক্ষক হিসেবে চিহ্নিতরা না ঢুকে পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত খকরায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকবেন এবং বেতন পাবেন। অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে চাকরি পাওয়া শিক্ষকরা বেতন তো পাবেনই না উল্টে তাদের বেতন ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রাপ্ত বসু তথ্য অনুযায়ী রাজ্যের স্কুলগুলির পঠন পাঠন বজায় রাখতে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৭ হাজার ২০৬ জন যোগ্য শিক্ষকের তালিকা তৈরি করেছে এসএসসি। যা ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই যোগ্যদের তালিকায় কোনমতেই অযোগ্য শিক্ষক অথবা শিক্ষা কর্মীদের নাম না ঢুকে যায় সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে চায় রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। উল্লেখযোগ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষা কর্মী বা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি কর্মীদের এই বেতন তালিকায় স্থান পাওয়ার কোনও অধিকার নেই। অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে তৈরি করে শিক্ষা দপ্তরকে পাঠাতে পারেনি এসএসসি। এই অবস্থায় যোগ্য শিক্ষকদের সঙ্গে যাতে কোন অযোগ্য শিক্ষক বেতন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যান সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে।
