সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
পুরীর জগন্নাথ ধামের আদলে ধর্মক্ষেত্র তৈরির দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য নিয়ে দীঘায় পৌছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুর বারোটা নাগাদ দীঘায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীঘায় পৌঁছেছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, ইন্দ্রনীল সেন, পুলাক রায় সহ একাধিক মন্ত্রী ও আধিকারিকরা। আজ দুপুরের মধ্যেই রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দীঘার সমুদ্র সৈকতে পৌঁছে যাবেন। আগামী বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হবে। তার আগেই দিঘায় জগন্নাথ ধাম সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ কলকাতা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারের দীঘার হেলিপ্যাড ময়দানে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমেই তিনি জগন্নাথ মন্দির দর্শনে যান। উদ্বোধনের প্রস্তুতি এবং মন্দিরের চূড়ান্ত পর্বের কাজ পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও সেবাইতদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলেন মন্দিরের যিনি প্রাণপ্রতিষ্ঠা করবেন পুরীর জগন্নাথধামের সেবাইত রাজেশ দ্বৈতাপতির সঙ্গেও। এরপর দিঘার সরকারি অতিথি নিবাসে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী।
জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে দিঘার সমুদ্র সৈকতে এখন প্রচুর দর্শনার্থীদের ভিড়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন ভিআইপি নয় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে এই জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন কর্মসূচি পালন করাই লক্ষ্য রাজ্যের। মহকুম্ভের মত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সেদিকেও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার মহাযজ্ঞ ও পূজা-অর্চনা করে বুধবার মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং উদ্বোধন হবে। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পর জগন্নাথ মন্দির পরিচালনার জন্য ইসকনের হাতে হস্তান্তরিত করবে রাজ্য সরকার। প্রসঙ্গত, আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দীঘায় এই ধরনের ধর্ম ক্ষেত্র তৈরীর স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এ ধর্ম ক্ষেত্র কে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় পর্যটন তৈরি হবে তাই নয় তার সঙ্গে তৈরি হবে প্রচুর কর্মসংস্থানও। সেই স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে স্বাভাবিকভাবেই খুশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
